সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: চৈত্র সংক্রান্তিতে ঝাড়গ্রামজুড়ে বিভিন্ন গরামথানে সারুল পুজো হবে। প্রকৃতিপূজারী আদিবাসীরা এই পুজো না দিয়ে জঙ্গলের নতুন পাতা, ফুলফল ব্যবহার করেন না। মূলত কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষ এই সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। ওইদিন বিভিন্ন গরাম থানে কাঁচা আম, মহুল ও শালফুল পাতের খালায় সাজিয়ে নৈবেদ্য হিসেবে উৎসর্গ করা হয়। এটাই সারুল পুজো।
পুরো চৈত্রমাস ধরে প্রতি মঙ্গল ও শনিবার জেলার বিভিন্ন জায়গায় গরাম পুজো হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তিতে গরমথানে পুজো সঞ্চালনা করেন কুড়মি সমাজের নিজস্ব পূজারী বা ‘লায়া’। এই পুজোয় নতুন পাতা ও ফুলফলে সেজে ওঠা প্রকৃতিকে স্বাগত জানানো হয়। লালগড়ের রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের লায়া বিভীষণ মাহাত বলেন, আমাদের এলাকায় জাঁকজমকের সঙ্গে সারুল পুজো হবে।
লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞরা জানান, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ আগে জঙ্গলকে ঘিরেই জীবন কাটাতেন। পাতায় খাওয়া হতো। জঙ্গলের মহুল গাছ ছিল তাঁদের জীবনযাত্রার অন্যতম অবলম্বন। মহুল ফল থেকে তেল তৈরি করতেন তাঁরা। মহুল ফুল সেদ্ধ করে খাওয়া হতো। সেজন্য তাঁরা নতুন বছরে ফুল, ফল ও পাতা ব্যবহার করার আগে তা প্রকৃতিদেবীকে উৎসর্গ করেন।
পুরুলিয়ার কুড়মালি ভাষার সাহিত্যিক কিরীটি মাহাত বলেন, গরামথানে নৈবেদ্য হিসেবে শালফুল, নতুন পাতা দিয়ে পুজো দেওয়া হয়। সারুল পুজোয় গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লায়ারা চালায় শালফুল গুঁজে দেন। শালফুল থেকেই সারুল শব্দটি এসেছে বলে মনে করা হয়।
সাঁকরাইলের কুড়মালি সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ভূপেন মাহাত বলেন, আমাদের ভাষায় শালফুলকে ‘শালোই’ বলা হয়। কুড়মালি ভাষায় ‘শ’ বর্ণের ব্যবহার নেই। শালোই থেকেই সারুল এসেছে। গরামপুজো বছরে চারবার হয়। এর মধ্যে চৈত্র সংক্রান্তিতে গরাম থানেই সারুল পূজা হয়।