Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

সারদাদেবী

কারুর ভক্তিপূর্ণ দানকে যে মা মস্ত মর্যাদা দিতেন, তার প্রচুর প্রমাণ পাওয়া যায়। ভক্তের দানকে সারদাদেবী সারাজীবন সাধ্যমতো রক্ষা ও ব্যবহার করে ভক্তবাৎসল্যের প্রচুর পরিচয় দিতেন

সারদাদেবী
  • ১৪ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩
Prefer us on Google

কারুর ভক্তিপূর্ণ দানকে যে মা মস্ত মর্যাদা দিতেন, তার প্রচুর প্রমাণ পাওয়া যায়। ভক্তের দানকে সারদাদেবী সারাজীবন সাধ্যমতো রক্ষা ও ব্যবহার করে ভক্তবাৎসল্যের প্রচুর পরিচয় দিতেন। শ্রীশ্রীমা সারদাকে যোগীন মহারাজ একবার একটা লেপ তৈরী করিয়ে দিয়েছিলেন। বহু বছর বাদে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যায় সেটি সারদাদেবী সেটির তুলো পিঁজে নতুন খোল দিয়ে সংস্কার করার কথা বলেছিলেন বিভূতিবাবুকে। কিন্তু যেই যোগীন মহারাজকে মায়ের মনে পড়ল, অমনি তিনি ভাবলেন যে, তাঁর দেওয়া জিনিসটি তো আর তাহলে তেমনটি থাকবে না এবং তখনই তিনি প্রাণে প্রচণ্ড একটা ধাক্কা খেলেন। তাই তৎক্ষণাৎ তিনি সেই সংস্কার সাধনের বাসনা পরিত্যাগ করে পুনরায় বিভূতিবাবুকে বললেনঃ “না, বিভূতি, লেপটা নিয়ে কাজ নাই; এই লেপ যোগীন দিয়েছিল, দেখলেই যোগীনকে মনে পড়ে।”

Advertisement

সারদাদেবীকে সিস্টার নিবেদিতাও ভক্তি ভরে একটা জার্মান সিলভারের কৌটো দিয়েছিলেন। সারদাদেবী সেটাতে ঠাকুরের কেশ রেখেছিলেন এবং বলতেন: “যখন পূজা করি, কৌটোটি দেখলেই নিবেদিতাকে মনে পড়ে।”
শ্রীশ্রীমা একবার একটা ভাল বালাপোষ খুঁজে পাচ্ছিলেন না বলে মন খারাপ করছিলেন। কিন্তু বলে উঠলেন: “বালাপোষের জন্য কি, বাবুরাম (স্বামী প্রেমানন্দ)-এর মা এই বালাপোষটি দিয়েছিল, সেইজন্যে।”
আবার বিশ্বযুদ্ধ ফেরৎ ফণীভূষণ (স্বামী ভবশানন্দ) একটা তুর্কী মোহর মাকে দেবার জন্য কোন এক ভক্তের হাতে দিয়েছিলেন। মা মোহরটি পেয়ে পরমানন্দে বলেছিলেনঃ “মোহরের আর কি দাম, স্মৃতিরই দাম; সে যে এই মনে করে মোহরটি এনেছিল।” সেই মোহরটি মায়ের অপ্রকট হওয়ার পরে পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছিল তাঁর বাক্সে কাগজমোড়া অবস্থায়। ভক্তদের ভালভাবে ভেবেচিন্তে সর্বদা সব কাজ করতে হয়। একটি অশান্ত সন্তানকে সেজন্য সারদাদেবী সতর্ক করে দিচ্ছেন: “তুমি কেন অমন পাগলা হয়ে চলবে? এতে যে তাঁর দুর্নাম হবে। লোকে বলবে, তাঁর ভক্ত পাগল হয়েছে। তোমার কি এমন করা উচিত, যাতে তাঁর দুর্নাম হয়? যাও, বাড়ী যাও, দশজনে যেমন আছে, বেশ খাও দাও থাক।” ভক্তির বাড়াবাড়ি প্রায়ই পাগলামিতে পর্যবসিত হয়। ভক্তির সেরকম আতিশয্যও আবার অনেক সময় সারদাদেবীকে সইতে হতো। কিছু ভক্ত নিজেকে মায়ের মনে গেঁথে রাখবার জন্য নানা উদ্ভট উপায়ের উদ্ভাবন করতেন। এক একজন ভক্ত মায়ের পা জড়িয়ে ধরে বলতেন: “মা, আপনি বলুন, অন্ততঃ আমার মরবার সময় আপনি আমায় দেখা দেবেন।” মা বলতেন: “আচ্ছা, ঠাকুরকে বলব, তিনি যেন দর্শন দেন।” তাতেও ভক্ত নাছোড়বান্দা। অবশেষে মা বলতেন বাধ্য হয়ে: “আচ্ছা, বাবা, তাই হবে।” তখন তিনি অব্যাহতি পেতেন।
পরিমল চক্রবর্তী ও অপর্ণা চক্রবর্তীর ‘শ্রীশ্রীমা সারদা কথামৃত’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ