কলম্বো: প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হেলায় হারিয়েছে ভারত। ১২ পয়েন্ট পাওয়ায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কিছুটা অক্সিজেন পেয়েছেন গিলরা। তবে এমন দাপুটে জয়েও চাপা থাকছে না বেশ কিছু অস্বস্তি। বিশেষ করে, দলের এক নম্বর স্পিনার কুলদীপ যাদবের অফ ফর্ম চিন্তায় ফেলেছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। দুই ইনিংস মিলিয়ে কুলদীপ ২৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে পেয়েছেন মাত্র একটি উইকেট। বলা ভালো, মানব সুথার ও রবীন্দ্র জাদেজার সাফল্যে ঢাকা পড়েছেন তিনি। প্রথম টেস্টে নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারায় রীতিমতো চাপে অভিজ্ঞ চায়নাম্যান স্পিনার।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতের পরের টেস্ট শুরু রবিবার। সেটাই হবে সিরিজের নির্ণায়ক তথা শেষ ম্যাচ। ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়া লঙ্কান ক্রিকেটাররা যে মরণ-কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। অতীতে দেখা গিয়েছে, স্পিন সহায়ক পিচ বানিয়েই কামব্যাকের চেষ্টা করেছে আয়োজক দেশ। তাই দ্বিতীয় টেস্টে বল আরও বেশি ঘুরবে বলেই ধারণা ক্রিকেট মহলের। ভারতের স্পিন বিভাগ অবশ্য খুবই শক্তিশালী। নবাগত সুথার দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে বুড়ো হাড়ে ভেলকি দেখিয়েছেন জাদেজাও। সেই তুলনায় কুলদীপ মেঘে ঢাকা তারা। তাই কলম্বোয় পরের টেস্টে তাঁকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। টিম ম্যানেজমেন্টের হাতে তাঁর বিকল্পও আছে। মধ্যপ্রদেশের ৩৩ বছর বয়সি স্পিন অলরাউন্ডার সারাংশ জৈনকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। ভারতীয় এ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ভালো বল করেছিলেন সারাংশ। ব্যাটের হাতও ভালো। ডানহাতি এই অফ স্পিনার শ্রীলঙ্কার বাঁ হাতি ব্যাটারদের বিপাকে ফেলতে পারেন। সেই অঙ্কও মাথায় থাকছে গম্ভীরদের। তাই সারাংশ দ্বিতীয় টেস্টে খেললে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
তাছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের ব্যাটিং আশানুরূপ ছিল না। দুশোর কমেই গুটিয়ে গিয়েছিল ইনিংস। দল জেতায় ব্যাটিং ব্যর্থতা ঢাকা পড়ে গিয়েছে। তবে কলম্বোয় বল বেশি টার্ন করলে ব্যাট করা সহজ হবে না। তাতে সমস্যায় পড়বেন যশস্বী, গিলরা। গত কয়েক বছরে স্পিনের বিরুদ্ধে ব্যাটিংয়ের দৈন্যদশা প্রকট হয়েছে বারবার। তাই ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হজম করতে হয়েছিল হোয়াইটওয়াশের লজ্জা।