Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

নহবতে সারদার রুটিন

নহবতে শ্রীশ্রীমায়ের একটি দৈনিক চিত্র। আমাদের কৌতূহলী মন জানতে চায় মা সারাদিন কী করতেন। প্রত্যক্ষদর্শী যোগেন-মা মায়ের দৈনিক চিত্র বর্ণনা করেছেন:

নহবতে সারদার রুটিন
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নহবতে শ্রীশ্রীমায়ের একটি দৈনিক চিত্র। আমাদের কৌতূহলী মন জানতে চায় মা সারাদিন কী করতেন। প্রত্যক্ষদর্শী যোগেন-মা মায়ের দৈনিক চিত্র বর্ণনা করেছেন:

Advertisement

শ্রীমা ভোর চারটার আগে শৌচ ও স্নানাদি সেরে ধ্যানে বসতেন—ঠাকুর ধ্যান করতে বলতেন কিনা! এর পরে বাকি কাজকর্ম সেরে পূজায় বসতেন। পূজা, জপ, ধ্যান—এতে প্রায় দেড়ঘণ্টা কেটে যেত। তারপর সিঁড়ির নিচে রান্না করতে বসতেন। রান্না হলে যেদিন সুযোগ ঘটত, সেদিন মা নিজ হাতে ঠাকুরকে স্নানের জন্য তেল মাখিয়ে দিতেন। সাড়ে দশটা এগারটার মধ্যে ঠাকুর আহার করতেন। তিনি স্নানে যেতেন, মা এসে তাড়াতাড়ি ঠাকুরের পান সেজে নজর রাখতেন ঠাকুর স্নান করে ফিরে এলেন কিনা। তিনি তাঁর ঘরে এলেই মা এসে জল ও আসন দিয়ে তার পরে খাবারের থালা নিয়ে এসে তাঁকে আহারে বসিয়ে নানা কথার মধ্য দিয়ে চেষ্টা করতেন, যাতে খাবার সময় ভাবসমাধি উপস্থিত হয়ে আহারে বিঘ্ন না ঘটায়। একমাত্র মা-ই খাবারের সময় তাঁর ভাবসমাধি আসা অনেকটা ঠেকিয়ে রাখতে পারতেন, আর কারও সে সাধ্য ছিল না। ঠাকুরের খাওয়া হলে মা একটু কিছু মুখে দিয়ে জল খেয়ে নিতেন। পরে পান সাজতে বসতেন। পান সাজা হয়ে গেলে গুনগুন করে গান গাইতেন; তা খুব সাবধানে, যেন কেউ না শুনতে পায়। এর পরে কলের সেই একটার বাঁশি বেজে উঠত, যাকে ঠাকুরের মা বৃন্দাবনে কৃষ্ণের বাঁশি বলতেন, তাই শুনে তিনি খেতে বসতেন। সুতরাং দেড়টা দুটোর আগে কোন দিনই মায়ের খাওয়া হতো না। আহারের পরে নামমাত্র একটু বিশ্রাম করে সিঁড়িতে চুল শুকোতে বসতেন তিনটে নাগাদ। তারপর আলো-টালো ঠিক করে তোলা-জলে নমো নমো করে মুখ হাত ধুয়ে কাপড় কেচে সন্ধ্যার জন্য প্রস্তুত হতেন। সন্ধ্যা এলে আলো দিয়ে ঠাকুরদেবতার সামনে ধুনো দেখিয়ে মা ধ্যানে বসতেন। এর পরে রাত্রের রান্না; সকলকে খাওয়ানো সেরে মা আহার করতেন। তারপর একটু বিশ্রাম করে শুয়ে পড়তেন।
সংসার মজার কুটি
কথায় বলে, সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে। বিবাহিত জীবনে ভুল বোঝাবুঝি হলে দুঃখের অন্ত থাকে না। পারস্পরিক ভালোবাসা, অকপটতা, নিঃস্বার্থপরতা, সেবাপরায়ণতা, শ্রদ্ধা, নিরভিমানতা বিবাহিত জীবনকে আনন্দে মধুময় করে তোলে। ঠাকুর ও মা গৃহস্থ পরিবারদের সামনে সেই আদর্শ বিবাহিত জীবন দেখিয়ে গিয়েছেন। 
স্বামী চেতনানন্দের ‘ধ্যানলোকে শ্রীমা সারদা দেবী’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ