সংবাদদাতা, বোলপুর: ধ্রুব সাহা রইলেন। সরিয়ে দেওয়া হল সন্ন্যাসীচরণ মণ্ডল ওরফে অষ্টমকে। সন্ন্যাসীচরণের বদলে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হলেন প্রবীণ নেতা শ্যামাপদ মণ্ডল। সূত্রের খবর, অষ্টমের নেতৃত্বে সন্তুষ্ট ছিল না রাজ্য নেতৃত্ব। তাই মেয়াদ শেষ হতেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। এদিন শ্যামাপদবাবুকে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেই অনুষ্ঠানে বিদায়ী সভাপতিকে দেখা যায়নি। তাতে আরেকবার প্রকাশ্যে এল বিজেপির দলীয় কোন্দল বলে দাবি তৃণমূলের। বীরভূম জেলায় যে ক’জন প্রবীণ নেতা বিজেপির সংগঠনকে শক্তিশালী করতে মরিয়া ছিলেন, শ্যামাপদ মণ্ডল তারমধ্যে অন্যতম। এক সময়ে অখণ্ড বীরভূম জেলার সভাপতি ছিলেন তিনি। বোলপুরের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতির পদে ছিলেন। পরবর্তীতে এই জেলা দু’টি সাংগঠনিক জেলায় বিভক্ত হয়। বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হন ধ্রুব সাহা। তিনি সেই পদেই রইলেন। কিন্তু সরিয়ে দেওয়া হল অষ্টম মণ্ডলকে। বিজেপি সুত্রের খবর, আর্থিক তছরূপ, সাংগঠনিক অদক্ষতার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে অষ্টমবাবু বলেন, দল যে দায়িত্ব দিয়েছিল সসম্মানে পালন করেছি। নতুন সভাপতিকে স্বাগত জানাই। আগামীদিনে দল যে দায়িত্ব দেবে, তা মাথা পেতে নেব। এদিন জেলা সভাপতি পদে বসার পর বোলপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে বসেন শ্যামাপদবাবু। তিনি বলেন, দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করাই হবে আমার প্রথম লক্ষ্য। বর্তমানে বীরভূম জেলা রাজ্যের মধ্যে সবথেকে দুর্নীতিগ্রস্ত। স্বচ্ছতা আনার ও সাধারণ মানুষকে ভয় মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এরপরেই শাসকদল তৃণমূলকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, তৃণমূল এখন নিজেদের মধ্যেই খেলতে ব্যস্ত। আগে সেই খেলা শেষ হোক। তারপর আমাদের সঙ্গে খেলবে। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। তখন যদি উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে, আমরাও নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুসারে সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখাব। বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হলেন বিজেপি নেতা শ্যামাপদ মণ্ডল।



