নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: টিউশন পড়তে আসা ছাত্রীকে গণধর্ষণের পরিকল্পনা কি আগে থেকেই ছকে রাখা হয়েছিল? সেই কারণেই কি বন্ধুকে ফোন করে পার্কে ডেকেছিল ধৃত সঞ্জু সাহা? ধৃতদের জেরা করে বিষয়টি জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তবে ধৃতরা আগাম পরিকল্পনার কথা স্বীকার করতে চাইছে না বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। সঞ্জু ছাড়া বাকি দুই ধৃতকে আজ, মঙ্গলবার টিআই প্যারেডের পর হেপাজতে নেবে পুলিশ। এরপর তাদের পৃথকভাবে এবং মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কমিশনারেটের তরফে জানানো হয়েছে, ধৃতদের কঠোর সাজা নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
শনিবার সন্ধ্যায় টিউশন পড়তে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দমদমে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া ওই ছাত্রীর বাড়ি দমদম পুরসভার কমলাপুর লাগোয়া কলোনিতে। ছাত্রীর বাড়ির অদূরে ধৃত টোটোচালক সঞ্জু সাহা পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকত। তার স্ত্রী ও পুত্র রয়েছে। তা সত্ত্বেও সে ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। টোটোয় যাতায়াতের সূত্রেই ছাত্রীর ফোন নম্বর ছিল তারা কাছে। তাদের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে ফোনে কথাবার্তা হওয়ার তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে গোরাবাজার এলাকায় টিউশন পড়তে গিয়েছিল। তখনই তাকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সঞ্জু ছাড়াও তার দুই বন্ধু ভিকি পাসোয়ান, রাকেশ ওরফে রাজেশ পাসোয়ানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ইতিমধ্যে পুলিশ ধৃত সঞ্জুকে জেরা করে জেনেছে, সে প্রথমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে গল্প করার কথা বলে তাকে কমলাপুর কিশলয় সংঘের পার্কে নিয়ে গিয়েছিল। কোনও এক ফাঁকে সে তার বন্ধু ভিকি পাসেয়ানকে ডেকে নেয়। সঞ্জু যখন পার্কে ওই নাবালিকার সঙ্গে গল্প করছিল, তখনই সেখানে ঢোকে ভিকি। সে ভিকির সঙ্গে নাবালিকার পরিচয় করিয়ে দেয়। সেখানে কিছু সময় কাটানোর পর নাবালিকাকে টোটোয় চাপিয়ে তারা রাকেশের বাড়িতে যায়। সেখানে পরপর তিন জন নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। তদন্তকারীদের অনুমান, সঞ্জু আগে থেকেই এ বিষয়ে ভিকি ও রাকেশের সঙ্গে পরিকল্পনা করে রেখেছিল। তাই রাকেশ স্ত্রী ও পুত্রকে ওই দিন সন্ধ্যায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। যদিও জেরায় সঞ্জু দাবি করেছে, রাকেশের বাড়ি যে ফাঁকা রয়েছে, তা সে জানত না। সেখানে গিয়েই জেনেছে। পুলিশ তাই ধৃত তিন জনকে পৃথকভাবে ও মুখোমুখি বসিয়ে জেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধৃতদের মোবাইলের কল রেকর্ডও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।