নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বার্তা দিতে এক অনন্য উদ্যোগের সাক্ষী হয়ে রইল সিউড়ি শহর। সিউড়ির সাজানোপল্লি দুর্গাপুজো কমিটি ঐক্যতান এবছর পুজোয় বহুদিনের প্রচলিত প্রথা ভাঙল। কোনও জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্তা বা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নয়, বরং উদ্বোধনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল সাফাই কর্মীদের হাতে। ঢাকের আওয়াজ, ধূপ-ধুনোর গন্ধে ভরে ওঠা মণ্ডপে এমন ভিন্ন দৃশ্য দেখে পুজো উদ্যোক্তাদের কুর্নিশ জানাচ্ছে শহরবাসী।
সাফাইকর্মীদের প্রত্যেকেই শহরের প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। পড়াশোনাও বেশি দূর করেননি। শহরের ঘুম ভাঙার আগেই তাঁরা ঘুম থেকে ওঠেন। জঞ্জাল অপসারণ করেন। খালি পায়ে ড্রেনের পাঁকে নেমে সেখান থেকে ময়লা তুলে নিকাশি ব্যবস্থাকে সচল রাখার চেষ্টা করেন। শহরের আবর্জনার স্তূপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যখন সবাই নাকে রুমাল চাপা দেয়, তখন সেই আবর্জনার দুর্গন্ধ তাঁরা টেনে নেন বুকের পাঁজরে। হাত দিয়ে নোংরা পরিষ্কার করেন। সমুদ্রমন্থনের সময় শিব ঠাকুর যেমন সমস্ত বিষ পান করে ধরাধামকে বাঁচিয়েছিলেন, সাফাইকর্মীরা তেমনই আমাদের সমাজের নীলকন্ঠ। তাই সমাজে তাঁদের এই অবদান স্মরণ করিয়ে দিতেই এই অভিনব ভাবনা বলে জানিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তাদের দাবি, সমাজের বিশিষ্টজনদের দিয়ে তো সবাই পুজো উদ্বোধন করায়। কিন্তু, মায়ের চোখে সবাই সমান। তাই আমরাই সাফাইকর্মীদের বিশেষ মর্যদা দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করালাম।
স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন বিকেলের পর ওই পুজোর উদ্বোধন হয়। প্রতিদিন সাফাইয়ের কাজে যুক্ত ১২ জন সাফাই কর্মীকে উদ্বোধনে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছ’জন নর্দমার আবর্জনা পরিষ্কার করেন। বাকি ছ’জন বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করেন। এদিন সাজানোপল্লি দুর্গাপুজো কমিটি ঐক্যতানের তরফে তাঁদের প্রত্যেককে সম্মান প্রদান করা হয়। তারপর তাঁদের হাত দিয়ে ফিতে কেটে পুজোর উদ্বোধন করা হয়। ক্লাবের সম্পাদক সুমন ঘোষ বলেন, মায়ের চোখে সবাই সমান। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ নেই। যা আছে, তা আমাদেরই তৈরি। সেই প্রচলিত ধারণা ভাঙতেই আমাদের এই উদ্যোগ। তাঁর সংযোজন, সাফাই কর্মীরা সারা বছর এলাকা পরিষ্কার রাখেন। পরিবেশ সুস্থ রাখেন। কিন্তু, তাঁরা সেই সম্মান পান না। বরং অনেকক্ষেত্রে লাঞ্ছনা, বঞ্চনার শিকার হন। তাই সাফাই কর্মীদের প্রতি সমাজের ধারণা ভাঙতেই আমরা তাঁদের দিয়ে পুজোর উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নিই।