সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: তৃণমূলস্তরে ভিত মজবুত করতে রীতিমতো স্ক্রুটিনি শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)। গাঁ-গঞ্জে সংগঠনের বুনিয়াদ দৃঢ় করতেই এমন সিদ্ধান্ত। যাঁদেরকে বুথ সভাপতি করা হচ্ছে, তাঁরা কি পেশার সঙ্গে যুক্ত, কতদিন ধরে সংগঠন করছেন, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন, সেসব কিছু যাচাই পর্ব বেশ কিছুদিন ধরেই শুরু হয়েছে। উৎসবের মরশুম কেটে গেলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। তবে, নির্বাচনের আগে যাঁরা ময়দানে নেমে লড়াই করেছিলেন, তাঁদের বদল করা হচ্ছে না। কিন্তু অনেকেই পদে থেকেও নির্বাচনে কাজ করেননি। তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। বুথ থেকে মণ্ডল সমস্তস্তরেই একই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা কাউকেই পদে বসানো হবে না। আবার সিপিএম থেকে এসে পদে থাকা কেউ বিজেপিতে গুরুত্ব পাবেন না। আরএসএস সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। সংঘের এক নেতা বলেন, অন্য দল থেকে লোকজন বাছাই করে নেওয়া হবে। যাঁরা অত্যাচারিত বা দুর্নীতিগ্রস্ত নয়, তাঁদেরকেই দলে ঠাঁই দেওয়া হবে। তাঁরা সাধারণ কর্মীদের মতই থাকবেন। কোনও পদ দেওয়া যাবে না। পদাধিকারী নির্বাচনে প্রথমে আরএএস ঘনিষ্ঠদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। তা না পাওয়া গেলে আদি বিজেপির লোকজনদের সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই কমিটি থাকবে।
বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দল ক্ষমতায় এলেও বহু বুথের সংগঠন নড়বড়ে। হাতেগোণা কয়েকজন এলাকায় ছড়ি ঘোরাচ্ছে। গ্রামের লোকজনদের অনেকেই তাঁদের পছন্দ করে না। ওই সমস্ত লোকজনদের বাদ দিয়েই কমিটি গঠন করা হবে। সক্রিয় এবং স্বচ্ছভাবমূর্তি ছাড়া কেউ পদে বসবে না। পঞ্চায়েত বা পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ওই পদাধিকারীদের মতামত গুরুত্ব দেওয়া হবে। এক ব্যক্তি এক পদ নীতি চালু হচ্ছে। কোনও জনপ্রতিনিধি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবে না। দলের অনেকেই মনে করছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন অন্য রকম হাওয়ায় হয়েছে। পরের নির্বাচন গুলিতে লড়াই কঠিন হবে। সেক্ষেত্রে শক্তিশালী সংগঠন না হলে লড়াই করা চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে।
বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, ‘সংগঠনের বিষয়টি শীর্ষ নেতৃত্ব দেখছে। তবে হঠাৎ করে অন্য দল থেকে এসে যাঁরা ভাবছেন পদ পেয়ে যাবেন তাঁদের ধারণা ভুল।’ আর এক নেতা বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে আরএসএসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। গ্রামে গ্রামে গিয়ে তাঁরা কাজ করেছেন। অনেক বিজেপি নেতা ঘরে বসেছিলেন। আরএসএস নেতারা বারবার তাঁদের বাড়িতে গিয়েছেন। তাঁদেরকে উৎসাহিত করে ময়দানে নামিয়েছেন। এমনকি কোথাও কোথাও বাইরে থেকে আসা আরএএস নেতা নিজেরাই গ্রামে গ্রামে গিয়ে হিন্দুত্ব নিয়ে প্রচার করেছেন। তাই সংগঠনের ভিত মজবুত করতে আরএসএসের মতামত গুরুত্ব পাচ্ছে।



