নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সন্দেশখালিতে শেখ শাহাজাহানের ডেরা বলে পরিচিত হোটেল থেকে জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় এবার নয়া মোড়। ঋণ গ্রহীতাদের দেওয়া হতো নকল নোট। এই কাজটি করত রাজারহাটের বাসিন্দা এক মহিলা। তার বাড়িতে সীমান্ত পেরিয়ে আসা জাল নোট মজুত রাখা হতো। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতেও ছাপানো চলত নকল টাকা। অভিযুক্ত মহিলা তিস্তা সেনকে রামপুরহাটের একটি গেস্ট হাউস থেকে রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে সন্দেশখালি থানা। প্রতারণার জন্য ওই মহিলার নির্দেশমতো শাহাজাহানের ডেরায় জাল টাকা এনে রাখা হয়েছিল বলে জেনেছে পুলিস। অবৈধ কারবার চালাতে দেওয়ার বিনিময়ে সন্দেশখালির ‘বাদশা’ কমিশন পেয়েছেন বলে খবর।
শনিবার সন্দেশখালিতে শাহাজাহানের ডেরা বলে পরিচিত ওই হোটেল থেকে ন’কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার হয়। জাল–আসল মিলিয়ে টাকা মিলেছিল ৩২ কোটি। হোটেল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে তারা। তাদের মোবাইল ঘেঁটে তদন্তকারীরা তিস্তা সেন নামে এক মহিলার কথা জানতে পারেন। দেখা যায়, শনিবারও তার সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে দুজনের। আগেও কথা বলার প্রমাণ মেলে কল ডিটেইলস ঘেঁটে। দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিস্তা সেনের নির্দেশমতোই তারা এই হোটেলে জাল ও আসল টাকা এনে রেখেছিল। জানা যায়, তিস্তার বাড়ি রাজারহাটে। সেখানে গিয়ে তার খোঁজ পাননি তদন্তকারীরা। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত মহিলা রামপুরহাট এলাকার একটি গেস্ট হাউসে রয়েছে। সন্দেশখালির থানার অফিসাররা সেখানে পৌঁছে তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে মহিলা জানায়, সে এই নোট নিয়ে এসেছিল। রামপুরহাট থেকে থেকে ঝাড়খণ্ডে পালানোর পরিকল্পনা ছিল। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিস্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, রাজারহাট এলাকায় সন্দেশখালির বাদশা ব্যবসায়িক কাজে আসত। সেখানেই শাহাজাহানের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর শাহাজাহানের হাত ধরেই জাল নোট কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ। এরপর তিস্তা নিজেই জাল নোট নিয়ে আসা শুরু করে। অভিযুক্ত তদন্তকারীদের জানিয়েছে, সে একটি অফিস খুলেছিল রাজারহাট এলাকায়। বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করত, সহজ শর্তে অল্প সুদে ২৪ ঘণ্টায় ঋণের ব্যবস্থা করার। ঋণের টাকা হাতেনাতে দিয়ে থাকে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্টের বাড়িতে চলে যেত অভিযুক্ত। কোনও ফাইনান্স কোম্পানি বা ব্যাঙ্কের নামে ছাপা ফর্ম ফিলআপ করাত। প্রয়োজনীয় নথি নেওয়ার পর প্রসেসিং ফি’র নাম করে নেওয়া হতো মোটা টাকা। কয়েকদিন পর আবেদনকারীকে বলা হতো, তার ঋণ অনুমোদন হয়ে গিয়েছে। নগদে টাকা নিয়ে যেতে শাহাজাহানের ডেরায় ডাকত ওই মহিলা। বান্ডিলে দু একটি আসল নোট রেখে, বাকি নকল নোট রাখা হতো। এরপর সেটি তুলে দেওয়া হতো ঋণগ্রহীতাকে। অভিযুক্ত মহিলা ২০২৪ সালে সাইবার প্রতারণা মামলায় ধরা পড়ে লালবাজারের হাতে। অবৈধ কল সেন্টারের টাকা সে হাওলা করে পাচার করত বলে অভিযোগ। শাহজাহানের ডেরা ওই হোটেলে বসে এই কারবার চালানোর জন্য কমিশন দিত তাকে। সেই টাকায় বাদশা আগ্নেয়াস্ত্র কিনত বলে জেনেছে পুলিস।