নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন দ্বারকেশ্বর নদ থেকে দেদার বালি পাচার চলছে। জেলা প্রশাসন তথা ভূমিদপ্তরের তরফে বাঁকুড়ার সব নদনদী থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়েই চলছে বালি পাচার। বস্তায় ভরে সাইকেল সহ অন্যান্য যানবাহনে বালি কোনো জায়গায় নিয়ে গিয়ে মজুত করা হচ্ছে। এর পিছনে শহরের কয়েকজন বালি মাফিয়ার হাত রয়েছে। তারা মজুত বালি চড়া দামে বিক্রি করছে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, বেআইনি বালি কারবারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া শহরের দু’পাশ দিয়ে বয়ে চলা গন্ধেশ্বরী নদী ও দ্বারকেশ্বর নদ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনিভাবে বালি তোলা হচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বালি তোলার হার কম হলেও ওই বেআইনি কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত বালি তোলার কাজ চলছে। নদীর চর থেকে বস্তায় বালি ভরে পাড়ে তোলা হচ্ছে। পরে সেই বালি ‘মহাজন’দের ডেরায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে ওই বালি মজুত করা হচ্ছে। নদীর পাড় থেকেও বস্তা পিছু ৩৫টাকা দরে বালি বিক্রি করা হচ্ছে। কারও অল্প বালি প্রয়োজন হলে সকালের দিকে নদীর পাড়ে গিয়ে বালি কিনে নিচ্ছে। সেই বালি ইঞ্জিন ভ্যানে চাপিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে রাজগ্রাম এলাকায় দ্বারকেশ্বর নদের চরে ওই কারবার বেশি চলছে। এক্তেশ্বর এলাকায় জাতীয় সড়কের সেতুর দু’দিকেও বালি মাফিয়া মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা সক্রিয় রয়েছে। সতীঘাটে গন্ধেশ্বরী নদী থেকেও দেদার বালি তোলা হয়। বৃষ্টিতে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেলে ওই কারবার কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়। নদীর জল কমলেই ফের বালি তোলা শুরু হয়ে যায়। বাঁকুড়া জেলা অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় অবস্থানের কারণে নদীর জল দ্রুত নেমে যায়। সেই সুযোগে বালি মাফিয়ারা পাচার চালিয়ে থাকে। বালি উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, মহাজনদের নির্দেশে আমরা কাজ করি। এক বস্তা বালি নদী থেকে তুলে মহাজনের ডেরায় পৌঁছে দিলে ৩৫ টাকা পাই। অনেকে অবশ্য সরাসরি নদীর পাড় থেকে বালির বস্তা কিনে থাকে। মহাজনরা স্টক পয়েন্ট থেকে বালি বিক্রি করে মোটা টাকা আয় করে। প্রশাসনের নজর এড়াতে আমরা মাঝরাত থেকে কাজ শুরু করি। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বালি তোলা বন্ধ করে দিই। রাজগ্রাম ব্রিজ এলাকায় বালি তুলে এভাবেই চলছে পাচার। -নিজস্ব চিত্র