সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: বালি খাদানের এককর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে খড়িবাড়ি ব্লকের ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কির আন্তারামছাটের মেচি নদীর মঞ্জুঘাটে। মারধরে রয়্যাল্টি কাউন্টারের কর্মীকে অর্জুনকুমার সিং জখম হন। ভিডিও ফুটেজ সিসি ক্যামেরায় বন্দি হয়। সেই ছবি দিয়ে বুধবার রাতে খড়িবাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জখম ব্যক্তি। ঘটনায় অভিযোগের তির শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বিজেপির অজয় ওরাওঁয়ের দিকে।
ফাঁসিদেওয়া থানার ওসি অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, অভিযোগ জমা পড়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, অজয় ওরাওঁ তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে নদীঘাটে আসেন। অভিযোগ, রয়্যালটি অফিসের শাটার বন্ধ করে দেন। পরে রয়্যালটি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেন। যদিও বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে বৃহস্পতিবার দাবি করেন মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা। এনিয়ে অজয় ওরাওঁ বলেন, গ্রামবাসীদের অভিযোগ পেয়ে বুধবার বিকেলে নদীঘাটে যাই। কারণ ঘাটটি অবৈধ। সেটি মঞ্জুঘাটের রয়্যালটি অফিস নয়। সেটি আড়াই কিমি দূরে বাতাসির ভুলকাঘাটের লিজপ্রাপ্ত রয়্যালটি অফিস। শুধু তাই নয়, একটি রয়্যালটি জাল করে তিনটি ট্যাক্টর চলছে। আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এসব অনিয়ম বেনিয়মের খোঁজ পেয়ে সেখানে যাই। উপস্থিত কর্মীরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগকারী রয়্যালটি কর্মী অর্জুনকুমার সিং বলেন, আচমকা চারজন এসে কোম্পানির ম্যানেজারকে ফোন করতে বলেন। এরপর ফোনে কি কথা হয় তা বলতে পারছি না। ওরা কাউন্টারে ঢুকে শাটার নামিয়ে দেয়। আমায় টেনে বের করে বাইরে বেধড়ক মারধর করে। স্থানীয়দের বাধায় প্রাণে বেঁচেছি।
সংশ্লিষ্ট ঘাটের লিজ হোল্ডার পাওয়া কোম্পানির ম্যানেজার চন্দন গোস্বামী বলেন, অজয়বাবু ফোনে আমাকে বলেন আমাদের রয়্যালটি অফিস দু’টি রয়েছে। এজন্য একটির শাটার বন্ধ করতে হবে। আমি কিছু বলার আগেই উনি ফোনের সংযোগ ছিন্ন করেন। এরপর শুনি, কাউন্টারের কর্মীকে তিনি ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা মারধর করেছে।
যদিও পরিষদের বিরোধী দলনেতার দাবি, এনিয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন। পাশাপাশি অবৈধ নদীঘাট নিয়ে ভূমিদপ্তরে চিঠি করবেন। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডল বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে এমনটা হওয়ার কথা নয়। অজয় ওরাওঁ কাউকে মারধর করবে, তেমন ছেলে উনি নন। পরিষদের সভাধিপতি তৃণমূল কংগ্রেসের অরুণ ঘোষ বলেন, পানিট্যাঙ্কির বহু মানুষ বালি-পাথরের কারবারের সঙ্গে জড়িত। বৈধভাবে যাতে কাজ হয় তারজন্য রাজ্য সরকার সেখানে রয়্যালটি দিয়েছে। ঘটনাটি কী হয়েছে, জানি না। পুলিসকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে বলব। মেচি নদীর মঞ্জুঘাটে রয়্যাল্টি কাউন্টার।