Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অজয়ে বালি উত্তোলন, গভীর রাতে অভিযানে জেলাশাসক

বর্ষাকালে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থোড়াই কেয়ার করে অবাধে অজয় নদে বালি তোলা চলছেই।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অজয়ে বালি উত্তোলন, গভীর রাতে অভিযানে জেলাশাসক
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বর্ষাকালে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থোড়াই কেয়ার করে অবাধে অজয় নদে বালি তোলা চলছেই। আর এই অবৈধ বালি তোলার কারবারিদের বিরুদ্ধে নানুরে অভিযান চালাল বীরভূম জেলা প্রশাসন।  সেখানে একাধিক বালি ভর্তি ডাম্পার, আর্থ মুভার, বালি তোলার নৌকা, সাকশন মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন। তবে, প্রশাসনের দল আসতে জানতে পেরে অবৈধ বালি কারবারি ও তার লোকজন পালিয়ে যায়।

Advertisement

অভিযোগ, নানুরের অজয় নদের সেতু(লোচনদাস সেতু) সংলগ্ন এলাকায় বাঁধ কেটে ও সাকশন পাইপ ব্যবহার করে বালি তোলা হচ্ছিল। ‌খবর পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে জেলাশাসক বিধান রায়ের নেতৃত্বে নানুরের পালিতপুরের প্রতাপপুর চক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে একাধিক বালি বোঝাই ডাম্পার, আর্থ মুভার, বালি তোলার নৌকা সাকশন মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়। 
জেলাশাসক বলেন, জেলার বিভিন্ন মহকুমায় গভীর রাতে প্রশাসনের তরফে অভিযান এই প্রথম নয়। নানুরের এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ বালি কারবার চলছিল। বিষয়টি নজরে আসার পরই অভিযান চালানো হয়েছে। আগামীতেও অবৈধ বালি কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। সাধারণত বর্ষার সময় নদী থেকে বালি তোলা বন্ধ রাখে প্রশাসন। নদীর নাব্যতা তৈরি ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়াতেই এই নির্দেশ কার্যকর করে প্রশাসন। এবছর গত ১০ জুলাই থেকে এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই অজয় নদের বিভিন্ন ঘাটে অবৈধভাবের বালি তোলা চলছিল। 
গোপন সূত্রের খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালান জেলাশাসক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) বিশ্বজিৎ মোদক, বোলপুরের মহকুমা শাসক অয়ন নাথ, নানুর থানার ওসি নিতু সিং সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক। সেই অভিযানে ১৬টি ডাম্পার, চারটি আর্থ মুভার ও দুটি নৌকার উপর বসানো সাকশন মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলি নানুরের কিষাণ মান্ডিতে রাখা হয়েছে। আগে নানুর থানা বা ব্লক প্রশাসনের তরফে অবৈধ বালি কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ বালিঘাটগুলিতে কোনও নজরদারি নেই। পুলিসের একাংশও এই অবৈধ বালি কারবারিদের কাছ থেকে টাকা নেয়। সেজন্যই সব জেনেও পুলিস কোনও ব্যবস্থা নেয় না।  
এ প্রসঙ্গে একজন বৈধ ঘাট মালিক বলেন, প্রশাসনের এই নির্দেশ শুধুমাত্র বৈধ ঘাট মালিকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অথচ প্রশাসনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন মাফিয়ারা অবৈধভাবে বালি তুলে নদীর বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। নৌকায় বসানো সাকশন মেশিনের সাহায্যে বালি তোলায় যেখানে সেখানে খালের সৃষ্টি হচ্ছে। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সেইসঙ্গে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্বও ফাঁকি পড়ছে। নজরদারিতে চরম গাফিলতির জন্য কয়েকজন অফিসারকে জেলাশাসক তিরস্কার করেন বলে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ