সংবাদদাতা, চাঁচল: মোটা টাকা মজুরির প্রলোভন দিয়ে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজের উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল তিন নাবালককে! পুলিসের তৎপরতায় ভেস্তে গেল সেই পাচার।
সংবাদদাতা, চাঁচল: মোটা টাকা মজুরির প্রলোভন দিয়ে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজের উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল তিন নাবালককে! পুলিসের তৎপরতায় ভেস্তে গেল সেই পাচার।
তিন নাবালককে রেলপথে মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ স্টেশন থেকে উদ্ধার করল জিআরপি। পরবর্তীতে তাদেরকে মালদহের সামসি ফাঁড়ির পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সন্তানদের ফিরে পেয়ে খুশি পরিবারগুলি। ঘটনায় পলাতক অভিযুক্ত পাচারকারী রকিম আলির খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিস।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া তিন নাবালক রতুয়া-১ ব্লকের চাঁদমুনি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের রসুনগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। সকলেরই বয়স ১৩ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিল তারা। সামসি ফাঁড়িতে মিসিং ডায়েরি করা হলে তদন্ত শুরু করে পুলিস। তদন্তে উঠে আসে ওই এলাকার লকড়িগোলা গ্রামের রকিম আলি নামে এক যুবক পরিযায়ী শ্রমিকদের ঠিকাদার। সে নাবালকদের ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজে নিয়ে যাচ্ছিল। রাকিমের মোবাইলের জিপিএস লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিস জানতে পারে সে ট্রেনে আজিমগঞ্জ স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে সামসি পুলিস যোগাযোগ স্থাপন করে আজিমগঞ্জ জিআরপি থানায়। জিআরপিও তৎপর হয়।
ট্রেনের জেনারেল কামরা থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ তিন নাবালককে। তবে সেসময় পুলিসের অভিযানের খবর পেয়েই অভিযুক্ত রাকিম ট্রেন থেকে নেমে পালিয়ে যায়। নাবালকদের এক অভিভাবক মহম্মদ আনারুল বলেন, পুলিস তৎপর না হলে ছেলের সন্ধানই পেতাম না।
সামসি ফাঁড়ির এক পুলিস আধিকারিক বলেন, তিন নাবালককে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে শিশুদের ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা চলছে। এপ্রসঙ্গে চাঁচল মহকুমা শ্রমদপ্তরের কমিশনার নওশাদ আলি বলেন, শিশুশ্রম আইন বিরোধী। যদি পরিবারের তরফে দপ্তরে লিখিত অভিযোগ আসে, আমরা অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করব। শিশুশ্রম রোধে এলাকায় নিয়মিত সচেতনতামূলক শিবির করা হয়।