সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: শেষ চার বলে তিন উইকেট! মহম্মদ সামি নিশ্চয় মনে মনে গুনগুন করছেন, ‘অজিত আগরকর, তুমি পারছো কি শুনতে!’ ম্যাচের আগের দিনই প্রধান নির্বাচককে খোঁচা দিয়েছিলেন তারকা পেসার। আর বুধবার ইডেনে রনজি ট্রফির পয়লা দিনেই সামি প্রমাণ করলেন যে, তিনি ‘ফুরিয়ে’ যাননি। শেষ সেশনে তাঁর দাপটেই উত্তরাখণ্ডর প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ২১৩ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিনের শেষে বাংলার স্কোর ১ উইকেটে ৮। প্রথম বলেই ফেরেন ক্যাপ্টেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ (০)। ক্রিজে আছেন সুদীপ চ্যাটার্জি (ব্যাটিং ১) ও সুদীপ ঘরামি (ব্যাটিং ৭)।
ফিটনেস নিয়ে আগরকর কোনও খবরাখবর রাখেননি, বুধবারই নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যানকে বিঁধেছিলেন সামি। সেজন্যই এই ম্যাচে আকর্ষণের কেন্দ্রে চলে আসেন তারকা পেসার। টস জিতে এদিন ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু। তখন হয়তো অনেকেই ভেবেছিলেন নতুন বলে আগুন ঝরাবেন সামি। কিন্তু প্রথম স্পেলের চার ওভারে রীতিমতো বিবর্ণ দেখায় তাঁকে। পরের ছোট ছোট তিনটি স্পেলেও থাকেন উইকেটহীন। জাতীয় দলের আর এক তারকা আকাশদীপের অবস্থাও তথৈবচ। বরং বল হাতে নজর কাড়লেন তরুণ পেসার সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল। একাই চার উইকেট নিয়ে তিনি চাপে রেখেছিলেন উত্তরাখণ্ডকে। তাঁকে সঙ্গত করলেন ঈশান পোড়েল (৩/৪০)। তবুও ভূপেন লালবানীর ৭১ রানের সুবাদে একটা সময় মনে হচ্ছিল বড় স্কোর তুলবে উত্তরাখণ্ড।
কিন্তু শেষদিকে সামি আবারও প্রমাণ করলেন, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট।’ ব্যক্তিগত ১৫তম ওভারে সামির আগুনেই ছারখার উত্তরাখণ্ডের টেলএন্ডাররা। ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে দুরন্ত ইনসুইংয়ে তিনি বোল্ড করেন জন্মেজয় জৌসিকে। পরের বলে কট বিহাইন্ড রাজন কুমার। তখন হ্যাটট্রিকের স্বপ্নও জেগেছিল। কিন্তু তা পূর্ণ হয়নি। তৃতীয় বলটা ডট হয়। অবশ্য পরের ডেলিভারিতেই দেবেন্দ্র বোরা বোল্ড। উত্তরাখণ্ডের ইনিংসে চটজলদি দাঁড়ি টানেন সামি।
তবু প্রশ্ন থাকছেই, ঘরের মাঠে খেলার পুরো ফায়দা কি তুলতে পারল বঙ্গ-ব্রিগেড? বাংলার প্রধান অস্ত্র পেস বিভাগ। সেখানে ইডেনের উইকেটে পেসারদের জন্য তেমন সুবিধাই ছিল না। পুরো দিনে পড়ল ১১টি উইকেট। দুর্বল প্রতিপক্ষ উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে বোনাস সহ জিততে না পারলে কিন্তু পরের দিকে চাপে পড়বে লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল।