সৌরাংশু দেবনাথ , কলকাতা:
সৌরাংশু দেবনাথ , কলকাতা:
চ্যাম্পিয়নরা মুখে নন, জবাবটা বাইশ গজে দিতেই পছন্দ করেন। মহম্মদ সামি সেটাই করলেন। রনজি অভিযানের শুরুতেই সাত উইকেট নিয়ে বাংলাকে তো জেতালেনই, নির্বাচকণ্ডলীর প্রধান অজিত আগরকরকেও দিলেন মোক্ষম জবাব। কারা যেন ফিটনেস নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল?
শনিবার সকালে ১৬৫-২ নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু করেছিল উত্তরাখণ্ড। লিড ছিল ৫৫ রানের। সকালে দ্রুত ভাঙন ধরানোই ছিল বাংলার লক্ষ্য। তৃতীয় দিনে দুটোর বেশি উইকেট আসেনি। সরাসরি জয়ের আশা সেজন্যই ক্রমশ উধাও হচ্ছিল। এমন সময়েই জ্বলে উঠলেন সামি। তাঁর দিনের প্রথম স্পেলের মেয়াদ নয় ওভার! তাতেই এল বিপক্ষ ক্যাপ্টেন কুনাল চান্ডেলার (৭২) মহামূল্যবান উইকেট। ৯-৪-৭-১, রীতিমতো ঈর্ষণীয় সেই স্পেল। পরের স্পেলে এল আরও তিন উইকেট। ৩.৪-০-১২-৩। সার্বিকভাবে ৩৮ রানে চার উইকেট। আর ম্যাচে শিকারসংখ্যা সাত। এরপরও কি পরের মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা হবে না? ক্লাবহাউসে দাঁড়িয়ে সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির গলায় কিন্তু একরাশ মুগ্ধতা, ‘ওকে বলেছিলাম, তুই পারবি। কোনও সন্দেহ নেই, সামি ইজ দ্য বেস্ট।’ বাংলার পরের ম্যাচ গুজরাতের বিরুদ্ধে। তার আগে ইডেনের পিচে গতি ও বাউন্স চেয়ে আবেদন জানানো হল সৌরভের কাছে।
অবশ্য সামি ছাড়াও দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নজর কাড়লেন ঈশান পোড়েল (২-৬৩) ও আকাশদীপ (২-৭৯)। ফলে ২৬৫ রানে থামে উত্তরাখণ্ড। অর্থাৎ, জেতার জন্য ৫৮ ওভারে বাংলার টার্গেট ১৫৬। সুদীপ চ্যাটার্জি (১৬) দ্রুত ফিরলেও ক্যাপ্টেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ (অপরাজিত ৭১) দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন। সুদীপ ঘরামিও (৪৬) আক্রমণাত্মক মেজাজে চালালেন আগাগোড়া। বিশাল ভাটিকে (অপরাজিত ১৬) সঙ্গে নিয়ে আট উইকেটে জয় (১৫৬-২) নিশ্চিত করলেন অবশ্য অভিমন্যুই। শুরুতেই পকেটে ছয় পয়েন্ট। স্বপ্ন দেখা কিন্তু শুরু হল!