নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: জুলাই মাসে সপরিবারে পুরী বেড়াতে যাবেন। তাই তিনদিনের জন্য পুরীর একটি হোটেল অনলাইনে বুকিং করেছিলেন। ২৭ হাজার টাকা দিয়ে ‘সি ভিউ’ রুম নিয়েছিলেন সল্টলেকের ওই বাসিন্দা। পরে দেখেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে সঞ্চয়ের ৩৫ লক্ষ টাকা! তারপরই বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ব্যাপারে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। খোয়া যাওয়া টাকা যাতে ফিরে পান, সেব্যাপারে সাইবার থানায় আর্জি জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিস প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হওয়া টাকা ‘ফ্রিজ’ করার চেষ্টা করছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেক এফ ই ব্লকের ওই বাসিন্দা ৮, ৯ ও ১০ জুলাই পুরী যাবেন বলে ঠিক করেছিলেন। তারপর পুরীর একটি নামী হোটেলের ওয়েবসাইট থেকে একটি নম্বর পান। সেখানে ফোন করে গত ১১ জুন তিনদিনের জন্য রুম বুক করেন এবং ২৭ হাজার ২৬৪ টাকা পেমেন্ট করেন। অভিযোগ, তারপর ওয়েবসাইটের ওই নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করে বলা হয়, আপনি কেন একসঙ্গে টাকা দিয়েছেন? ২৭ হাজার এবং ২৬৪ টাকা আলাদা করে পেমেন্ট করুন। প্রথমবার যে টাকা পেমেন্ট করেছেন, তা ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। সল্টলেকের বাসিন্দা তাঁদের কথা মতো ফের ওই টাকা দু’ভাগে পেমেন্ট করেন। তারপর টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কের যাবতীয় তথ্য শেয়ার করে দেন।
এরপর তিনি দেখেন, ১১ জুন ও ১২ জুন তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৩৫ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে! মাথায় হাত পড়ে তাঁর। শুক্রবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমি একটি ফোন নম্বরে কল করেছিলাম। দেখলাম, টোল ফ্রি নম্বরে ডায়াল হয়ে গেল। ভাবলাম, হোটেলের নম্বর। কিন্তু, এভাবে প্রতারিত হব, বুঝতে পারিনি। ওদের কথা মতো ব্যাঙ্কের তথ্য দিয়েছিলাম। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, বিভিন্ন হোটেলের নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে রেখেছে প্রতারকরা। সেখানে তারা নিজেদের ফোন নম্বর দিয়েছে। তাই অনলাইনে যে কোনও হোটেল বুকিং করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট হোটেলের আসল ওয়েবসাইট জেনে অনলাইনে বুকিং করতে হবে। না হলে যে কোনও মুহূর্তে সর্বস্ব খোয়াতে হতে পারে।