নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মুষলধারায় বৃষ্টি। সঙ্গে বজ্রপাত। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় ৫০ মিনিটের বৃষ্টিতেই ডুবল সল্টলেক ও নিউটাউন। বহু জায়গায় রাস্তায় জমল হাঁটুসমান জল। কাদাজল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে মানুষকে। দুর্ভোগের শিকার হাজার হাজার মানুষ। রাস্তায় জল জমার কারণে গাড়ির গতি যায় কমে। ফলে বহু জায়গায় যানজট দেখা দেয়।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষার বৃষ্টির মতো স্বাভাবিক বর্ষণ এদিন হয়নি। স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে থান্ডারস্টর্ম তৈরি হয়েছিল। যেখানে বেশি মেঘ ঘনীভূত হয়েছে সেখানে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ফলে সল্টলেক, নিউটাউনেরও সব জায়গায় সমান পরিমাণ বৃষ্টি হয়নি। কোথাও বেশি হয়েছে। কোথাও আবার কম। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সল্টলেকে। সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটার হিসাব অনুযায়ী, আলিপুরে এদিন বৃষ্টি হয়েছে ১১ মিলিমিটার (এমএম)। দমদমে ১৪। সেখানে সল্টলেকে হয়েছে ৬৮ এমএম বৃষ্টি।
এদিনই সল্টলেক বইমেলা প্রাঙ্গণে ছিল গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, অন্নপূর্ণা দিবস। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য ভিআইপিরা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। দেড়টা নাগাদ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু। ৫১ হাজার মহিলা উপভোক্তা উপস্থিত হয়েছিলেন। তাঁদের বেশিরভাগ বৃষ্টির মধ্যে আটকে পড়েন। সভাস্থল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন যাঁরা তাঁরা আশ্রয় নেন করুণাময়ী মেট্রো স্টেশনে। তবে তাতে রেহাই পাননি। সকলেই ভিজেছেন। কাকভেজা ভিজেছে পুলিশও। প্রায় ৫০ মিনিট একনাগারে অঝোরে বৃষ্টি হয়। তারপর কমে। কিন্তু ঝিরঝির করে পড়েই গিয়েছে বিকেল ইস্তক। অল্প সময়ের বর্ষণেই বইমেলা প্রাঙ্গণের সামনের রাজপথ জল থইথই। মেলা প্রাঙ্গণের ভিতরও জলমগ্ন। বিধাননগর পুরসভা পাম্প ব্যবহার করে জল বের করার চেষ্টা চালায়। জলমগ্ন করুণাময়ী বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে নাকাল হতে হয় মানুষকে। বাস ধরতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন সকলে।
অন্যদিকে সল্টলেকের শিল্পাঞ্চল সেক্টর ফাইভের প্রায় বানভাসি দশা। রাস্তায় হাঁটুর উপর জল। জামা-জুতো ভিজে যাতায়াত করতে হয়েছে সবাইকে। সকলের অভিযোগ, বর্তমানে অল্প বৃষ্টিতেই সেক্টর ফাইভে জল দাঁড়িয়ে যায়। অতিবৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। যেভাবে জল জমার প্রবণতা তৈরি হয়েছে তাতে এবার সেক্টর ফাইভে সাঁতার কাটতে হবে বলে মনে হচ্ছে। শিল্প তালুকের টেকনোপলিস মোড় থেকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলির একই অবস্থা। সব জলমগ্ন।
জলা জমার রেকর্ডে বরাবরই এগিয়ে থাকে হলদিরাম মোড়। এদিন জল জমার প্রতিযোগিতায় নিউটাউন হলদিরামকে কার্যত টক্কর দিয়েছে। বৃষ্টি হলে নিউটাউনে সার্ভিস রোডে সাধারণত অল্প জল জমে। কিন্তু এদিনের বৃষ্টিতে সার্ভিস রোডেও হাঁটুর উপর জল। কোথাও সার্ভিস রোডের জল উপচে বিশ্ববাংলা সরণি ভাসিয়ে দিয়েছে। এরকম দৃশ্য নিউটাউনের বাসিন্দারা আগে দেখেননি বলে জানিয়েছেন। স্মার্ট সিটির আবাসিকদের এ অভিজ্ঞতা নতুন। দেখা গিয়েছে, আকাঙ্খা মোড়ের আশপাশের রাস্তাগুলি বানভাসি চেহারা নিয়েছে। সিটি সেন্টার-২, চিনারপার্কের সামনে জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বৃষ্টির জেরে গাছ উপড়ে পড়েছে। আকাঙ্খা মোড়ের সামনেই রাস্তার উপর দু’টি গাছ ভেঙে পড়ে। তবে কেউ হতাহত হয়নি। কিন্তু রাস্তার একদিক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। গাছ ভেঙে পড়ে সেক্টর ফাইভেও। সেখানেও হতাহতের ঘটনা নেই। সবমিলিয়ে নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে মানুষকে।