সংবাদদাতা, কান্দি: যোগান নেই। তাই রোগীর পরিজনদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে স্যালাইন। খড়গ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে এই সমস্যা চলছে প্রায় দেড়মাস ধরে। কান্দি মহকুমার অন্যান্য হাসপাতালগুলিতেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। যা নিয়ে রোগীর পরিজনরা চরম ক্ষুব্ধ। তবে দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানান হয়েছে। বাইরে থেকে এনএস স্যালাইন কিনলে লাগছে প্রায় ৩৫ টাকা। আরএন স্যালাইন বা ডিএস স্যালাইন কিনলেও লাগছে ৬০ টাকা করে। গত দেড়মাস ধরে এই অবস্থা চলছে খড়গ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে শুধু স্যালাইন বলে নয়। হাসপাতাল থেকে যে সব ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়ে থাকে, সেগুলিও পাওয়া যাচ্ছে না বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। ফলে এলাকার দুঃস্থ পরিবারগুলিকে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। খড়গ্রামের ঝিল্লি গ্রামের বাহাদুর শেখ বলেন, হাসপাতাল থেকে কোনও ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি স্যালাইনও বাইরের ওষুধের দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে। প্রায় দেড়মাস ধরে এই সমস্যা চলছে আমাদের হাসপাতালে। বাহাদুর সাহেব এনিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় আতাই গ্রামের নুরনেহার বিবি বলেন, বিড়ি বেঁধে আমাদের সংসার চলে। এমন অবস্থায় বৌমাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হল। আমার মতো প্রত্যেকের একই অবস্থা। হাসপাতালে ওষুধ স্যালাইন কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। খড়গ্রাম বিএমওএইচ রিন্টু গাজি বলেন, রাজ্য থেকে স্যালাইনের যোগান না থাকার কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা মিটে যাবে বলে আমাদের ধারণা। যদিও খড়গ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান আশিস মার্জিত বলেন, এই সমস্যার কথা জানা নেই। যাতে দ্রুত সমস্যা মেটে তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে শুধু খড়গ্রাম গ্রামীণ হাসপাতাল বলে নয়। মহকুমার বিভিন্ন হাসপাতালেই স্যালাইন সঙ্কট দেখা গিয়েছে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। মহকুমার অধিকাংশ হাসপাতালে রোগীর পরিজনদের বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার জন্য বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। যদিও কান্দি এসএমওএইচ সৌমিক দাস বলেন, যে সব হাসপাতালগুলির আনটাইড ফান্ড রয়েছে সেগুলি বাইরে থেকে কিছু স্যালাইন কিনতে পারছে। কিন্তু সব হাসপাতালের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।



