অভিষেক পাল, বহরমপুর: নির্বিঘ্নেই কাটছিল দিন। বিঘ্ন ঘটল কোচবিহার দিয়ে বেআইনি ভাবে সীমান্ত পেরতে গিয়ে। বিএসএফের জালে ধরা পড়ে গেল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মহম্মদ সেলিম আনসারি। শুক্রবার মেখলিগঞ্জে বিএসএফের জওয়ানরা তাকে পাকড়াও করেন। ধৃতের কাছ থেকে বৈধ পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। জেরায় সে স্বীকার করেছে, বেআইনিভাবে ভারতীয় আধার কার্ড, প্যান কার্ড বানিয়ে ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল সে। বেলডাঙার মক্রমপুরের ভাড়াবাড়ির ঠিকানায় রয়েছে তার খাদ্যসাথী কার্ডও। এইসব ভুয়ো ডকুমেন্ট ভাঙিয়ে গত দেড় বছর ধরে সে বেলডাঙার মক্রমপুরে একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে কাজ করত। পাশাপাশি শিক্ষকতা করত একটি মাদ্রাসায়। তার আধার কার্ডে রয়েছে বিহারের ঠিকানা। তাই দেখিয়েই সে বেলডাঙায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। তারপর অবৈধভাবে একের পর এক ডকুমেন্ট তৈরি করেছে।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেলিম আদতে বাংলাদেশের কক্সবাজারের বাঝেরপাড়ার বাসিন্দা। যুবকের আসল নাম সেলিমুদ্দিন। তার বাবা আবুল বাশার আগেই মারা গিয়েছেন। মুর্শিদাবাদে সেলিমের সঙ্গে তার মাও থাকতেন। মসজিদের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত ছিল। শিক্ষকতাও করত মাদ্রাসায়। সেই বাবদ অন্যের নামে আসা ইমাম ভাতার টাকাও পেত সেলিম। তবে কী কারণে সে হঠাৎ বাংলাদেশে যাচ্ছিল সে ব্যাপারে জানার চেষ্টা করছে পুলিস ও গোয়েন্দারা। বেলডাঙা থানার পুলিস ওই যুবকের মাকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। সেলিমের মা এদিন বলেন, আমার স্বামী মারা গিয়েছে অনেক বছর আগে। বাংলাদেশে আমাদের কোনও বাড়ি নেই। আমার শ্বশুরবাড়ি ছিল বিহারে। ছেলের সঙ্গে বেলডাঙায় অনেক দিন ধরে আছি। তবে হঠাৎ করে কেন ছেলে বাংলাদেশে যাচ্ছিল, তা তো জানি না। ওকে যে বিএসএফ ধরেছে, সে খবরও আমি পাইনি।
স্থানীয় মহিলারা বলেন, ওর মা বাড়ির বাইরে বের হতো না। কারও সঙ্গে কথা বলত না। ওদের গতিবিধি খুবই সন্দেহজনক। ছেলেকে বিএসএফ ধরেছে খবর পেয়েছি। তারপর বাড়িতে পুলিস এসেছিল।
মক্রমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা সানাউল্লাহ শেখ বলেন, ১৭-১৮ মাস ধরে এখানে রয়েছে। আমাদের বলেছিল বিহারে ওদের বাড়ি আছে। হঠাৎ করে কেন বাংলাদেশে যাওয়ার সময় ধরা পড়ল তা আমরা বুঝতে পারছি না। গত সোমবার আমাদের বলে গিয়েছিল যে, বাড়ি যাচ্ছি। দশ-বারো দিন বাদে ফিরব। পাশে যে বড় মসজিদ আছে, ওই মসজিদে উনি থাকতেন। ওর কথা বলার ভাষাটা অন্যরকম আর খুব আস্তে কথা বলত। তাই ওই মসজিদ থেকে ওর কাজ চলে যায়। তারপর এই পাশে একটা ছোট মসজিদে কম বেতনে কাজ দিয়েছিলাম। ওর ভাষা একটু আলাদা রকম ছিল, তবে বাংলাতেই কথা বলত।