Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কম্পিউটারের দাপটে কমেছে লাল জাবেদা খাতা ও ক্যালেন্ডার বিক্রি, চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

কম্পিউটারের দাপটে কমেছে লাল জাবেদা খাতা ও ক্যালেন্ডার বিক্রি, চিন্তায় ব্যবসায়ীরা
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: কম্পিউটারের যুগে জাবেদা খাতার চাহিদা কমেছে জেলাজুড়েই। বাংলা নববর্ষে জাবেদা খাতায় হালখাতা এখন পুরানো হয়েছে। কমেছে ক্যান্ডোর দেওয়ার চলও। বদলে কম্পিউটারের মাউসে ক্লিক করলেই ব্যবসায়ীর খাতায় খরিদ্দারের নাম চলে আসছে। বড় ক্যালেন্ডারের পরিবর্তে এখন পকেট ক্যালেন্ডারের চাহিদাই বেশি। তাই নববর্ষে জাবেদা খাতা ও ক্যালেন্ডারের বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশ। 

Advertisement

লাল জাবেদা খাতাতেই বাঙালি ব্যবসায়ীরা হিসেব নিকেশ লেখেন। সেই খাতার বিক্রিই এখন তলানিতে। কারণ কম্পিউটারের এক্সেল ফাইলেই বিক্রিবাটার সমস্ত হিসেব লেখা হচ্ছে। তাই মাউসে ক্লিক করেই এখন হালখাতা সারেন ব্যবসায়ীরা। এমনকি বাংলা নববর্ষে বাংলা ক্যালেন্ডারের চাহিদাও কমছে কাটোয়া মহকুমাজুড়ে। 
নিউ ইয়ারে ক্যালেন্ডারের চাহিদা থাকে বটে। তবে বাংলা নববর্ষে বাংলা পঞ্জিকা ক্যালেন্ডারের চাহিদাই বেশি। প্রতিবছর দোকানের বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য হালখাতা করেন ব্যবসায়ীরা। সেইজন্য বাংলা ক্যালেন্ডার তৈরির জন্য অর্ডার দেন ব্যবসায়ীরা। নববর্ষের সময় দোকানের খরিদ্দারদের মিষ্টির প্যাকেটের সঙ্গে বাংলা ক্যালেন্ডার দেওয়ার রীতি বহু পুরনো। তবে আগের থেকে তৈরির বরাত কমে যাওয়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কাটোয়ার ক্যালেন্ডার ব্যবসায়ীদের কপালে। তাঁদের দাবি, আগের থেকে ক্যালেন্ডারের চাহিদা অনেক কমেছে। তাই নববর্ষের হালখাতা পর্ব থাকলেও ক্যালেন্ডারের জৌলুস কমছে। তার মূল কারণ মোবাইল। এখন মোবাইলের সব তিথি, দিনক্ষণ দেখা যায়। তাই বাংলা ক্যালেন্ডার আগের মতো আর বিক্রি হয় না। 
তিথি, নক্ষত্র, একাদশী বা পূর্ণিমা দেখার জন্য বাংলা পকেট পঞ্জিকা ক্যালেন্ডারের চাহিদা বেশি। কাটোয়া শহরের ক্যালেন্ডার প্রস্তুতকারী  পিন্টু খাঁ, বাপি ঘোষ বলেন, বিগত বছর গুলির তুলনায় এবার ক্যালেন্ডার তৈরির বরাত অনেকটাই কমেছে। এবার অনেকে দেবদেবীর ছবি দেওয়া ক্যালেন্ডার তৈরির বরাত দিয়েছেন।  এখন এক-একটি ক্যালেন্ডারের দাম পড়ে ছয় থেকে ৬০ টাকা পিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় বাংলা ও ইংরাজি ক্যালেন্ডার তৈরি হয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বই খাতার দোকানেও জাবেদা খাতাও বিক্রি হয়। ব্যবসায়ী পিকু দাস বলেন, চাহিদা না থাকায় আগের মতো বড় জাবেদা খাতা আর রাখি না। এখন সব হিসাব নিকাশ কম্পিউটারেই হয়ে যায়। বর্তমানে মোবাইলের দাপটে বাংলার রীতি নীতি সবটাই ভুলতে বসেছেন আধুনিক প্রজন্ম। ঘরে কেউ আর ক্যালেন্ডার রাখতে চান না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ