নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাংলার সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়েছে ‘অবাঙালি’ ধনতেরাস। এখন বাঙালি বধূদের মধ্যে জাঁকজমক করে এই ব্রত পালনের ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশীর দিন ব্রতটি পালিত হয় বলে এর নাম ধনতেরাস। নামটি অবাঙালি হলেও এই সময় রীতি মেনে ধনদেবীর আরাধনা বাংলাতেও প্রচলিত। গৃহস্থের ধনবৃদ্ধির কামনায় অনেকেই জাঁকজমক করে ধনতেরাস পালন করছেন। ধন-সমৃদ্ধির আশায় বহরমপুরে সর্বত্র শনিবার সকাল থেকে সোনা ও রুপোর গয়না কেনার হিড়িক দেখা গেল। বহরমপুরের সোনার দোকানগুলিতে বাড়তি ভিড় চোখে পড়ে। অনেকে সোনার দাম বেশি হওয়ায় পিতল ও কাঁসার বাসন কিনছেন। পাশাপাশি, হলুদ, ধনে, চিনি, লবণ ও ঝাড়ু কিনতেও অনেককে দেখা গিয়েছে।
শনি ও রবিবার দিনভর ধনতেরাসের কেনাকাটার শুভক্ষণ থাকায় মানুষের সুবিধা হয়েছে। এদিন শহরের খাগড়া সোনাপট্টিতে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। দুপুরের দিকে একটু ফাঁকা থাকবে এই আশায় সোনার দোকানে গিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মহুয়া হালদার। তিনি বলেন, ছোট্ট একটি সোনার আংটি কেনার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। দোকানে ভীষণ ভিড়। সোনার দাম খুব বেড়ে গিয়েছে। তাই শুধু ছোট একটি আংটি কিনলাম। প্রতিবছরই ধনসম্পত্তি বৃদ্ধির আশায় সোনার জিনিস কিনি।
ধনতেরাস উপলক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানেও মিলছে ব্যাপক ছাড়। ক্রেতা টানতে বহুজাতিক সংস্থার বিভিন্ন শোরুমে নানা অফার চলছে। টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, মোবাইল ফোন, ব্লুটুথ স্পিকার সহ সবকিছুতেই ছাড় মিলছে। এই সুযোগে অনেকেই বাড়ির প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী কিনছেন।
হরিদাসমাটির বাসিন্দা বিপ্লব কর্মকার বলেন, আমার দোকানের জন্য ব্লুটুথ স্পিকার কেনার দরকার ছিল। ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী কেনা শুভ মনে করা হয়। তাই এদিনই কিনলাম। কিছুটা অফার পাওয়ায় দামও কম পড়ল।
তবে, গত কয়েক মাসে সোনার দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে আকর্ষণীয় অফার দিয়েই ক্রেতাদের দোকানমুখী করা হয়েছে। খাগড়ার বিভিন্ন স্বর্ণ বিপণিতে বড় অঙ্কের ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। কোথাও সোনার ওজনে দামের ছাড়, আবার কোথাও গয়নার মজুরিতে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আর তাতেই এদিন থেকে বিক্রি অনেকটাই বেড়েছে বলেই দাবি মুর্শিদাবাদ জেলা বুলিয়ান মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের।
অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক তথা একটি নামী গয়না প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রাজীব ধর বলেন, গত কয়েক মাসে সোনার দাম অনেকটাই বেড়েছে। আমরা ক্রেতাদের জন্য মজুরি এবং ওজনে কিছুটা ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। শনিবার সকাল থেকেই দোকানে ভালো ভিড় হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত কেনাকাটার এই হিড়িক থাকবে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন আসছেন। দোকানের কর্মচারীরা তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী জিনিস দেখাচ্ছেন। মানুষজন পছন্দ করে কিনছেন।
বহরমপুরের একটি প্রসিদ্ধ গয়নার দোকানের ম্যানেজার ঋতম দাস বলেন, এই তিনদিন বাড়তি ভিড় হয়। সেই জন্য আমরা আগে থেকেই দোকানে অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগ করেছি। মানুষ দামের কারণে হালকা সোনার গয়নার দিকে ঝুঁকছে। তবে ১৮ ক্যারেট সোনা এবং হীরের বেশ চাহিদা আছে।
লক্ষ্মীলাভের আশায় ঝাঁটা কেনার হিড়িক বহরমপুরে। -নিজস্ব চিত্র