নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কলেজের কর্মী হলেও কাজ করতেন না তাঁরা। তৃণমূল পরিচিতিই ছিল ‘অস্ত্র’! তাই অভিযোগের পাহাড় জমলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখায়নি কেউ। শেষ পর্যন্ত বারাসতের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়ের তৎপরতায় বারাসত কলেজের অস্থায়ী পদ থেকে চাকরি গেল সেই তিন তৃণমূল নেতানেত্রীর। তাঁরা হলেন আমডাঙা পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি প্রেয়সী বিশ্বাস, বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি লিঙ্কন মল্লিক ও তৃণমূল ছাত্রনেতা তাপস রায়। অভিযোগ, দিনের পর দিন কলেজে না গিয়েও নিয়মিত বেতন তুলেছেন তাঁরা। কাজ করার ব্যাপার না থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের জোরে চাকরি বহাল ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই ‘মৌরসিপাট্টা’য় আচমকা ধাক্কা দিয়ে মাত করলেন বিধায়ক শংকর।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলে আসছে বিজেপি সরকার। বারাসতে সেই বার্তা কার্যকর করতে তৎপর হয়েছেন বিধায়ক। গত ক’দিন ধরেই একাধিক সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে গিয়ে নথি খতিয়ে দেখেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি যান বারাসত কলেজে। সেখানে গিয়ে অস্থায়ী কর্মীদের নিয়োগ, উপস্থিতি এবং কাজের নথি সংগ্রহ করেন। সূত্রের খবর, নথি ঘাঁটতেই চোখ কপালে ওঠে তাঁর। কয়েকজন কর্মীর বেতন তোলার রেকর্ড থাকলেও তাঁদের কাজের কোনো সন্তোষজনক হিসাব পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। শুরু হয় বিস্তারিত পর্যালোচনা। ফলও মেলে হাতেনাতে। কলেজ প্রশাসনের তরফে সংশ্লিষ্ট তিনজনের কাছে চাকরির সমাপ্তির চিঠি পাঠানো হয়। তাতে স্পষ্ট ভাষায় বলে দেওয়া হয়, আগামী ১ জুন থেকে তাঁদের চাকরি সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেকের মতে, বিধায়ক শংকর শুধু অভিযোগ তোলেননি, নথি সংগ্রহ করেছেন। আর শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপের পথও তৈরি করেছেন। বিরোধী রাজনীতিতে বহু দিন ধরে যে প্রশ্ন উঠত— অভিযোগের পরে ব্যবস্থা কোথায়? বারাসত কলেজের ঘটনায় তার একটি দৃশ্যমান উত্তর মিলেছে বলেই মনে করছেন গেরুয়া শিবির। তবে এনিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম দাশগুপ্ত অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি। বিধায়ক বলেন, ‘তৃণমূল আমলে দলীয় পরিচয়ই ছিল চাকরি বাঁচানোর লাইসেন্স। কাজ না করেও বেতন, কলেজে না গিয়েও সুযোগ নেওয়া ছিল বাস্তব। আমরা এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়ছি। বারাসত কলেজে যা হয়েছে, তা কেবল শুরু। এদের চাকরির ক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানা হয়নি। কলেজে নবীন বরণের নামে কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে। সেই তথ্য হাতেও এসেছে। ব্যবস্থা হবে নিশ্চিত।’