সংবাদদাতা, কান্দি: বাবা পেশায় কপিরাইটার। বাবার রোজগারের উপর নির্ভর করে একতলার বাড়িতে থেকে কোনওভাবে দিন চলে যায় তাঁদের। এমন একটি দুঃস্থ পরিবারের ছেলে হয়েও বিরাট জেদ এবং পরিশ্রমের পথ ধরে এগিয়ে গিয়ে স্বপ্নকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মুর্শিদাবাদের সালারের বছর ২৩-এর যুবকম। তিনি ইসরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ডাক পেয়েছেন। আগামী আগস্টেই কাজে যোগ দেবেন মমতাজুল।
সালার রেল স্টেশনের চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের পিছনে পূর্ব শেখপাড়ায় ওই যুবকের বাড়ি। বাড়ি বলতে দুই কামরার কংক্রিটের ঘর। সেখানে থাকেন যুবকের বাবা মহম্মদ আজগর আলি, মা মমতাজ বেগম ও দাদা মহম্মদ জাহিরুল হাসান।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবকের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশুনা সালার কে কে গার্লস স্কুলে। এরপর স্থানীয় তালিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন তিনি। জেলার জিয়াগঞ্জের একটি কলেজ থেকে পলিটেকনিক পাশ করার পর, বোলপুরের কলেজ থেকে বিটেক পাশ করেন। পরে বেঙ্গালুরু থেকে এমটেক করেন। এরপর থেকে শুধুই চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছেন। বারবার চেষ্টা করেছেন। মাঝে একটি কোম্পানিতে মাস দুয়েকের জন্য কাজও করেছেন। কিন্তু কিছুতেই মন বসছিল না। কেননা একজন স্পেস ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন তাঁর ছোটবেলা থেকেই।
সেইমতো ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তিনি ইসরোয় অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে পরীক্ষা দেন। এরপর গত ৫ মে তাঁর কাছে পৌঁছয় ইসরোর জয়েনিং লেটার। তাতে আগামী আগস্ট মাসে তাঁকে বেঙ্গালুরুতে জয়েন করার কথা বলা রয়েছে। এরপরেই বাড়িতে নেমে এসেছে খুশির হাওয়া। আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবেশীদের মধ্যেও। মমতাজুল জানান, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও প্রতি ক্ষেত্রে তাঁকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে যতবার স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেছি, ততবার বাদ গিয়েছি। ব্যর্থ হলেও কখনও আশাহত হইনি। আত্মবিশ্বাস ছিল বলেই হাল ছাড়িনি। কঠিন পরিশ্রম করে মোবাইলকে হাতিয়ার করেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছি।
যুবকের বাবা বলেন, প্রথমে তো আমরা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। ছোট থেকেই ছেলে পরিশ্রম করে গিয়েছে। এখন লক্ষ্যে পৌঁছতে ছেলের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। আমার অল্প রোজগারে ওকে সেভাবে সাহায্য করতে পারিনি। শুধু অদম্য সাহস আর পরিশ্রম ওকে এই পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। যুবকের মা চোখ ছলছল করে বলেন, ও যেটুকু করেছে ওর নিজের চেষ্টাতেই করেছে। ও আরও বড় হোক, এটাই চাই। • নিজস্ব চিত্র