সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: পুলিস: ব্যবসার বৈধতা কী?
সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: পুলিস: ব্যবসার বৈধতা কী?
সইদুল: গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড বিক্রির পাশাপাশি ফোন রিচার্জ করাই মূল ব্যবসা।
পুলিস: সারোগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে কীভাবে?
সইদুল: ব্যাঙ্কের মাধ্যমে।
পুলিস: মানে...
সইদুল: ব্যাঙ্কের একাংশ কর্মী সহযোগিতা করতেন।
হাসতে হাসতে এমন উত্তর দেয় ধৃত সইদুল। মানি লন্ডারিং কাণ্ডে ফাঁসিদেওয়ার ধৃত যুবক মহম্মদ সইদুলকে জেরা করে এমন তথ্য পেয়ে কিছুটা অবাক পুলিস অফিসাররা। সইদুলের এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে বৃহস্পতিবার তাঁরা বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। পুলিসের বক্তব্য, মোবাইল ফোনের ব্যবসার মাধ্যমেই প্রতারণায় হাতেখড়ি ধৃতের। তার দোকানে কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টের আদলে কাজ চলত।
দার্জিলিংয়ের পুলিস সুপার প্রবীণ প্রকাশ বলেন, সারোগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য মিলেছে। এজন্য বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগও করা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে খবর,মোবাইল ফোনের ব্যবসার আড়ালে প্রতারণা চক্রের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে সইদুল। প্রায় দেড় বছরে সে হাজারেরও বেশি সারোগেটেড অ্যাকাউন্ট একাধিক ব্যাঙ্কে খুলেছে। ব্যাঙ্কগুলি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়ানো। এখনও পর্যন্ত ধৃত ও তার আত্মীয়দের নামে ১০-১২টি কারেন্ট অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে। বাকি অ্যাকাউন্টগুলির স্ট্যাটাস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেগুলির অধিকাংশ সেভিংস বলে মনে হচ্ছে।
ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক বলেন,সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আধারকার্ড, প্যানকার্ড, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানার নথি দরকার। আর কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথিগুলি ছাড়াও ট্রেড লাইসেন্স জরুরি। সরাসরি ব্যাঙ্কে গিয়ে কিংবা ব্যাঙ্কের বিজনেস পয়েন্ট বা সিএসপি’র মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিস অফিসাররা বলেন, ধৃত ব্যাঙ্কের এজেন্ট নয়। তার নামে কোনও সিএসপিও নেই। কাজেই সে গ্রামবাসীদের টোপ দিয়ে অবৈধভাবে সারোগেটেভ অ্যাকাউন্টগুলি খুলেছিল।
দার্জিলিং জেলার লিড ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রাজেশ কুমার বলেন, ওই ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ পাইনি। তা হলেও আমরা বিস্তারিত খোঁজখবর নেব। কারণ সিএসপি ছাড়া কোনও মোবাইল ফোনের দোকান থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম নেই।
এদিকে, সইদুলের চক্রের কাণ্ড সামনে আসতেই অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়া প্রচুর মানুষ যোগাযোগ করেছে ফাঁসিদেওয়া থানার সঙ্গে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে ভিনরাজ্য থেকে ১০ জন যোগাযোগ করেছেন। অনলাইন প্রতারণা চক্র তাঁদের টাকা গায়েব করেছে। তাঁদের কয়েকজন ভিডিওকলের মাধ্যমে বয়ান লিপিবদ্ধ করিয়েছেন। এরবাইরে কারও কারও অ্যাকাউন্টে প্রচুর টাকার লেনদেন হয়েছে। সেই লেনদেন সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলেন অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা। তাঁদেরও কয়েকজন থানায় যোগাযোগ করে অভিযোগ জানিয়েছেন।