বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা; এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (ইপিএফও) আওতায় মাসে মাসে পেনশন পান দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের গড় পেনশন মাসে মাত্র আড়াই হাজার টাকা! বাস্তবে এতে নুন-ভাত জোটানোও সম্ভব নয়। কিন্তু পিএফ দপ্তরের দাবি, এই টাকাতেই আর্থিকভাবে সুনিশ্চিত ও নিরাপদ জীবন উপভোগ করছেন প্রবীণরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের তরফে এই দাবিও করা হয়েছে, যাঁরা বুদ্ধিমান, তাঁরাই পিএফ-এর উপর ভরসা করেন। তার কারণ, এখানে পেনশনের সুবিধা রয়েছে। যদিও নরেন্দ্র মোদি সরকারের এই দাবিতে চক্ষু চড়কগাছ প্রবীণদের! মাসে মাত্র আড়াই হাজার টাকা পেনশনে কীভাবে সুরক্ষিত জীবন উপভোগ করা যায়, সেটা তাঁরা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না।
২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের বার্ষিক রিপোর্টে ইপিএফও জানিয়েছে, দেশে পেনশন প্রাপকের সংখ্যা ৮১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৪৯০ জন। কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের শেষ বৈঠকে ওই হিসাব পেশ করা হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা আরও অনেকটা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন দপ্তরের কর্তারা। ওই বার্ষিক রিপোর্টেই দাবি করা হয়েছে, প্রবীণদের গড় পেনশন দেওয়া হচ্ছে মাসিক ২ হাজার ৫৭৩ টাকা। যাঁরা পারিবারিক পেনশন পান, তাদের প্রাপ্তির গড় অঙ্ক গড়ে ১ হাজার ৭৪০ টাকা। পেনশন প্রাপক মারা গেলে সন্তানের গড়ে পেনশন প্রাপ্তি মাসে ৬৪১ টাকা।
পেনশন প্রাপকদের বক্তব্য, সমগ্র কর্মজীবন জুড়ে পেনশন তহবিলে প্রতিমাসে টাকা জমিয়েছেন। এরপর মাসে মাসে পেনশন বাবদ যে টাকা মিলছে, তাতে অন্য খরচ বাদ দিয়ে শুধু নুন- ভাত জোটানোও সম্ভব নয়। অথচ তা নিয়েই আহ্লাদে আটখানা মোদি সরকার! পিএফ কর্তাদের একাংশ বলছেন, পেনশনের গড় অঙ্ক মাসে আড়াই হাজার টাকা হলেও, প্রবীণদের একটা বিরাট অংশ তার চেয়েও অনেক কম পান। মোদি সরকার বরাবর দাবি করে আসছে, তারা সমস্ত পেনশনভোগীদের ন্যূনতম এক হাজার টাকা পেনশন দেয়। অথচ বাস্তব মোটেই তা নয়। নানা নিয়মের গেরো ও অজুহাত দেখিয়ে এক হাজার টাকার কম পেনশন দেওয়া হয় প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষকে। মাসে দু-চারশো টাকা পেনশন নিয়েই তাঁদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়। মাসে দু’হাজার টাকার নীচে পেনশন পান ৭২ শতাংশ গ্রাহক।
এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে দাবি করেছে, গত এপ্রিল মাসে দেশে নতুন করে পেনশন পাচ্ছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ জন। এঁরা প্রত্যেকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত ও নিশ্চিত জীবন উপভোগ করতে পারবেন। কেন্দ্রের এই গর্বিত দাবিকে নিষ্ঠুর রসিকতা হিসেবেই দেখছেন প্রবীণরা। ইপিএস -৯৫ প্রকল্পের আওতায় থাকা পেনশনভোগীদের সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটির রাজ্য সভাপতি তপন দত্ত বলেন, ‘কেন্দ্রের শাসকদলের একাধিক মন্ত্রী ও সাংসদ তো বটেই, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পেনশনের অঙ্ক বাড়ানো হবে। কিন্তু বছরের পর বছর তা প্রতিশ্রুতিই থেকে গিয়েছে। আমাদের প্রত্যেকের হকের টাকা পাওয়ার জন্য এত লড়াই করেও এখনও পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।’



