Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবার জলমগ্ন পুরুলিয়ার সাধুডাঙা

কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবার জলমগ্ন পুরুলিয়ার সাধুডাঙা
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ফের জলমগ্ন হয়ে পড়ল পুরুলিয়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধুডাঙা এলাকা। সপ্তাহ দুয়েক আগেই প্রবল বর্ষণের জেরে ডুবে গিয়েছিল সাধুডাঙার বিস্তীর্ণ এলাকা। জল ঢুকে গিয়েছিল ত্রাণ শিবিরেও। চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছিল বাসিন্দাদের। প্রায় তিনদিন ত্রাণ শিবিরে কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন বাসিন্দারা। অনেকের বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় এখনও ঘরে ফিরতে পারেননি।  রেলওভার ব্রিজের তলায় তাঁরা রাত কাটাচ্ছেন। এরইমধ্যে রবিবার দুপুরে ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে ফের জলমগ্ন হয়ে পড়ল সাধুডাঙা। পরিস্থিতির জন্য রেলকে দায়ী করে এদিন বিকেলে রেল অবরোধে শামিল হন বাসিন্দারা। রাত ৮টা পর্যন্ত অবরোধ চলে। বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকে পড়ে। 

Advertisement

সাধুডাঙা এলাকা দিয়েই গোটা শহরের জল বের হয়। কিন্তু রেল অপরিকল্পিতভাবে ডবল লাইনের কাজের সময় ব্রিটিশ আমলের দু’টি কালভার্ট বুজিয়ে দেয়। তার জেরেই ওই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালির দাবি, আমরা রেলকে বছরখানেক আগেই চিঠি দিয়ে এব্যাপারে অবগত করেছিলাম। রেল তখন যদি কর্ণপাত করত, তাহলে বাসিন্দাদের এই দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হতো না। এর আগে গত ১৯ জুন ওই এলাকায় যখন জলমগ্ন হয়ে পড়ল, তখনই আমরা রেলকে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। রেল যদি পদক্ষেপ করত, তাহলে এদিন এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। পুরুলিয়া সদরের মহকুমা শাসক উত্পল ঘোষ বলেন, প্রশাসনের তরফেও আমরা রেলকে বহুবার এনিয়ে পদক্ষেপ করার ব্যাপারে আবেদন করেছি। ফের বিষয়টি নিয়ে রেলের সঙ্গে কথা বলব। 
সোমবার বিকেলের সাধুডাঙা এলাকায় রেল অবরোধের জেরে রূপশী বাংলা, পুরুষোত্তম এক্সপ্রেস, রাঁচি-আসানসোল মেমু, রাঁচি-আসানসোল, আদ্রা-বারভূম সহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন আটকে পড়ে। রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বাসিন্দাদের আলোচনা হয়। যদিও জল বের না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন বাসিন্দারা। অবরোধের খবর পেয়ে এলাকায় আসেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি। বিধায়ক বলেন, রেলের একশ্রেণির আধিকারিকদের গাফিলতির কারণে আজ এই অবস্থা। কীভাবে এর সমাধান করা যায় দেখছি। রাত ৮টা নাগাদ অবরোধ ওঠে। 
অবরোধকারীদের মধ্যে অন্যতম নবীন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ব্রিটিশ আমলের দু’টি কালভার্ট বন্ধ করে দিয়েছে রেল। ঘরে জল ঢুকে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অবরোধে শামিল হয়েছি। গৃহবধূ গঙ্গা বাউরি বলেন, বাড়িতে ছোট ছোট বাচ্চা আছে। ঘরে জল ঢুকে যাচ্ছে। আমরা বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব? অক্ষরানন্দ সরস্বতী বলেন, এদিন দুপুরে ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতেই অনেকের বাড়িতে জল ঢুকে যায়। আমরা অনেকে ভাত পর্যন্ত খেতে পারিনি। গোবিন্দ মাহাত বলেন, এর আগের বৃষ্টিতে সবকিছু ভেসে গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আসবাবপত্র সব নষ্ট হতে বসেছে। অনেকের ঘর বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। এরপর ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে আমরা যাব কোথায়? কাউন্সিলার বিভাসরঞ্জন দাস বলেন, এত বড় দুর্যোগে বিজেপির এমপি কী করছেন? সাধুডাঙার জন্য তিনি কী ভাবছেন? এখনই সমস্যার সমাধান না হলে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। আমরা এবার এমপির বাড়ি ঘেরাও করব। এনিয়ে এমপি জ্যোতির্ময় সিং মাহাতর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ