Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাগবাজারের চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে কুমারীর সঙ্গে পূজিতা হন সধবাও

বাগবাজারের গোঁসাই লেনে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের জগদ্ধাত্রী পুজো এবার ৯১ বছরে পড়বে

বাগবাজারের চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে কুমারীর সঙ্গে পূজিতা হন সধবাও
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাগবাজারের গোঁসাই লেনে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের জগদ্ধাত্রী পুজো এবার ৯১ বছরে পড়বে। এই পুজো শুরু সুকুমার চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে। তাঁর নাতি তথা এই পরিবারের গৃহকর্তা অলোক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গুরুদেবের নির্দেশেই ঠাকুরদা দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা শুরু করেন। ছ’ফুটের সাবেকি প্রতিমা পুজো হয় বৈষ্ণব রীতি মেনে। তবে চারদিন নয়, নবমীতে একদি঩নেই তিন প্রহরে সপ্তমী‑অষ্টমী‑নবমীর পুজো হয়। হয় চণ্ডীপাঠও। প্রথা মেনেই হয় কুমারী পুজো। তবে কুমারীর সঙ্গে এই বাড়িতে পূজিতা হন এক সধবাও।

Advertisement

পুজোর দিনে তিন প্রহরে তিন ধরনের ভোগ দেওয়া হয় মাকে। সপ্তমীর পুজোয় থাকে নানা ধরনের ফল, খিচুড়ি, মোচার ঘণ্ট, শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও আলু-পটলের তরকারি, পাঁচ রকম ভাজা, চাটনি, পায়েস, বোঁদে, মালপোয়া ও লেডিকিনি। অষ্টমীতে ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় ভাত, পোলাও, পাঁচ রকম ভাজা, বেগুনি, সবজি, চাটনি, পায়েস ও মিষ্টি। নবমীর ভোগে অন্ন থাকে না। সেই জায়গায় থাকে লুচি, পটল ও বেগুনভাজা, কচুরি, পাঁপড়,  সুজি, ও নানা ধরনের মিষ্টি। তিন প্রহরেই  দেওয়া হয় ডাব ও ১৬টি করে পান। দেবীর ফুলের সাজেও থাকে বৈচিত্র্য। সপ্তমীতে দেবীকে পরানো হয় গাঁদার মালা। অষ্টমীতে তা বদলে যায় জবা, বেলপাতা ও পদ্মের মালায়। নবমীর সাজে দেবীর গলায় থাকে অপরাজিতা, রজনীগন্ধার মালা। চাঁদমালাটিও ফুল দিয়েই তৈরি করা হয়। 
পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পুজোয় দেবীকে তিনটি মাটির হাঁড়িতে আলাদা আলাদা করে নারকেল ও তিলের নাড়ু, মুড়কি এবং আখ দেওয়া হয়। যে হাঁড়িতে করে নাড়ু, মুড়কি দেওয়া হয়, তার নাম ‘রচনা’। আগে পুজো উপলক্ষ্যে চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে ভিয়েন বসত। বাড়িতেই তৈরি হতো মিষ্টি। এখন অবশ্য সেই চল আর নেই। দোকান থেকে কেনা মিষ্টি দিয়েই পুজো হয়। 
এই পুজোর বৈশিষ্ট্য হল, ৯১ বছর আগে যে পুরোহিত পুজো করেছিলেন, যিনি প্রতিমা গড়েছিলেন এবং যিনি ঢাক বাজিয়েছিলেন, বংশ পরম্পরায় সেই পরিবারের সদস্যরাই সেই দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। পরিবারের প্রবীণ সদস্য অলোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ঠাকুরদার গুরুদেব বলির বিপক্ষে ছিলেন। সেকারণে প্রথম থেকেই এখানে বলি দেওয়া হয় না। নিয়ম মেনে কাঁধে চেপেই এই বাড়ির জগদ্ধাত্রী নিরঞ্জন হয় উত্তর কলকাতার গঙ্গার ঘাটে। নিরঞ্জন পর্বে থাকে গ্যাসবাতি ও ঢাকির দল। প্রতিমার সঙ্গে গঙ্গা অবধি যান বাড়ির মহিলারাও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ