নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গঙ্গার জলে ভাসছে তুলোর ছাঁট বোঝাই বড়ো বড়ো বস্তা। সেই বস্তাগুলিকে কোনওক্রমে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যাত্রীবোঝাই লঞ্চ। যে কোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এমন ভয়াবহ ছবি দেখা যাবে উত্তর হাওড়ার ফুলতলা ঘাট সহ বেশ কয়েকটি গঙ্গার ঘাটে। অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী তুলো, স্টিল কারখানাগুলি থেকে রাতের অন্ধকারে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে গঙ্গায়। প্রশাসনের নজরদারি নেই। ফলে বাড়ছে দূষণ। দুর্ঘটনা আশঙ্কা করছেন লঞ্চ চালকরা।
উত্তর হাওড়ার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা ঘাটে গেলেই চোখে পড়বে ঘাটের পাশে বড়ো বড়ো বস্তা ভাসছে। বস্তার উপরি অংশ দেখা গেলেও জলের নীচে ডুবে থাকে সিংহভাগ। আর এতেই বিপদ বেড়েছে লঞ্চ চলাচলে। ফুলতলা ঘাটের কিছুটা আগেই রয়েছে সালকিয়া বাঁধাঘাট। সেখান থেকে আহিরীটোলা ঘাটের মধ্যে দিনভর লঞ্চ চলাচল করে। ভাসমান বস্তাগুলি প্রপেলারে জড়িয়ে গেলে সমূহ বিপদ। লঞ্চ চালকদের অনেকেই বলছেন, ‘বস্তাগুলি পাখায় জড়িয়ে গেলে মোটর নষ্ট হয়ে যাবে। বস্তাগুলির কারণে জোয়ারে লঞ্চ চালানোর ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।’ এ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি। সমিতির ডিরেক্টর অজয় দে বলেন, ‘ছাঁট বোঝাই বস্তাগুলি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে নজরদারি করার দায়িত্ব পোর্ট ট্রাস্টের। তারা এসব কিছু দেখে না। ফলে গঙ্গার দু’পাড়ের ঘাটগুলিতে একই অবস্থা।’
শুধু ফুলতলা ঘাট নয়, শোলাকুঠি ঘাট, ওমপ্রকাশ ঘাট, শান্তিনগর ঘাট, গোঁসাই ঘাটেও নদীতে বড় বড় বস্তা ভাসতে দেখা যায় প্রতিদিন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার কাস্ট আয়রনের কারখানাগুলি থেকে মাঝেমধ্যেই বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। সালকিয়া স্কুল রোডের পাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি তুলোর কারখানা। রয়েছে লেপ, তোষক, গদির বড়ো মার্কেট। জে এন মুখার্জি রোডের বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, ‘আগে এই এলাকায় বেশ কিছু তুলোর কারখানা ছিল। সেগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যেগুলি বর্তমানে চলছে, সেখান থেকে ছাঁট বর্জ্য বস্তায় ভরে রাতের অন্ধকারে নদীতে ফেলা হচ্ছে।’ নদীতে বর্জ্য বোঝাই বস্তা ফেলা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হাওড়ার পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তও।