মুম্বই: ‘টু লেজেন্ডস, টু নেশনস, টু স্পোর্টস...।’ ওয়াংখেড়ে বোধহয় এই ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল। ‘শচীন, শচীন’ স্লোগানে থরথরিয়ে কাঁপছে গ্যালারি। ঝকঝকে কালো শার্টের সঙ্গে অফ হোয়াইট ট্রাউজার্স। মাস্টার ব্লাস্টারের সোনার চেন ফ্লাডলাইটের আলোয় ঝলমলিয়ে ওঠে। মেগা মঞ্চে এলএমটেনের ঠোঁটে তখন মুচকি হাসি। সৌজন্য বিনিময়ের পর লায়োনেল মেসির হাতে নিজের সই করা ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ের জার্সি তুলে দিলেন শচীন তেন্ডুলকর। ১৪ বছর আগে টিম ইন্ডিয়ার ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের সাক্ষী ওয়াংখেড়ের এই ২২গজ। রবিবার সন্ধ্যায় ফের সোনাঝরা মুহূর্তের সাক্ষী মুম্বইয়ের সাগরপাড়। পাল্টা উপহার দিলেন আর্জেন্তাইন কিংবদন্তি। তাঁর তরফে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সুদৃশ্য ফুটবল তুলে দেওয়া হয় শচীনের হাতে। সিটি অব ড্রিমস তখন ফেটে পড়ার জোগাড়।
শেষপাতে মেগা সারপ্রাইজ। ভারতের জাতীয় পতাকা শোভা পেল লায়োনেল মেসির হাতে। সবমিলিয়ে গ্ল্যামার, প্যাশন, বৈভব, আবেগে মুম্বইয়ের ‘গোট শো’ সুপারহিট। শচীনের মন্তব্যে চিরপরিচিত সৌজন্যের ছোঁয়া। মাস্টার ব্লাস্টার বললেন, ‘মেসি সত্যিই অসাধারণ। খেলার প্রতি ওঁর দায়বদ্ধতা ও প্যাশনকে সম্মান জানাই। দারুণ মুহূর্ত উপভোগ করলাম। মেসি ও তাঁর পরিবারকে অনেক শুভকামনা জানাই।’ দুই কিংবদন্তির অমূল্য ফ্রেম মুহূর্তে ভাইরাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, শেয়ারের সংখ্যা কয়েক লক্ষ। কলকাতার আপশোস— ইস! হয়তো এমন কিছুই দেখতে পেত যুবভারতীও। আয়োজকদের অযোগ্যতা ও বিশৃঙ্খলার জেরে তা থেকে বঞ্চিত হল সাধারণ মানুষ।
মুম্বইয়ে সুপার সানডে। দুপুর থেকেই সব রাস্তা মিশল ওয়াংখেড়েতে। দুপুরে ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় (সিসিআই) আমন্ত্রিত ছিলেন মেসি। প্যাডল কাপে অংশ নেন মেসি, সুয়ারেজ ও রডরিগো ডে পল। প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং ছাড়াও করিনা কাপুর হাজির ছিলেন সিসিআইতে। পরবর্তী গন্তব্য সাগরপাড়ের ওয়াংখেড়ে। ততক্ষণে প্রীতি ম্যাচে নেমে পড়েছেন সুনীল ছেত্রী, রাহুল ভেকে, বালা দেবীরা। বলিউডের দিনো মারিয়া, জিম সরবরা বল পায়েও সাবলীল। ভারতীয় ফুটবলের সর্বাধিক গোলদাতা সুনীলের হাতে সই করা জার্সি তুলে দেন মেসি। এক ঘণ্টার অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা ভাঙেনি একবারও। ভিআইপি জোনে দেখা যায় টাইগার শ্রফ ও অজয় দেবগনকে। ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল প্যাটেলও উপস্থিত ছিলেন।
লুইস সুয়ারেজ এবং ডে পলকে সঙ্গী করে মাঠ ঘুরলেন মেসি। গ্যালারির দিকে হাত নাড়তেই কয়েক হাজার ডেসিবেলের গর্জন। ফুরফুরে মেজাজে গ্যালারিতে উড়িয়ে দিলেন একের পর এক ফুটবল। ছোটদের সঙ্গে চুটিয়ে উপভোগ করেন ফুটবল ক্লিনিকও। কোনওরকম ক্লান্তি ছাড়াই অনবরত বল পায়ে গোটা গ্যালারি মাতালেন আর্জেন্তাইন মহাতারকা। পাশাপাশি মেসির হাতে উদ্বোধন হয় মহারাষ্ট্র সরকারের বিশেষ ফুটবল প্রজেক্ট।