সংবাদদাতা, ঘাটাল: দাসপুর থানার নিমতলাতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী রাসযাত্রা উৎসব আজ তথা শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। পৌরাণিক ঘটনাবলী এবং বহু বছরের ইতিহাসে সমৃদ্ধ এই উৎসবটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর আবেগ এবং উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। রাস পরিচালনা কমিটির সম্পাদক প্রশান্তকুমার দত্ত জানান, এবছর তাঁদের এই রাস উৎসব ৩৫৫ বছরে পদার্পণ করেছে এবং এটি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে।
Advertisement
নিমতলা জনপদটি ঘাটাল-পাঁশকুড়া সড়কের নিমতলা বাসস্টপ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে শিলাবতী নদীর বাঁধ সংলগ্ন এলাকা জুড়ে অবস্থিত। ওখানেই এই রাস উৎসবটি হচ্ছে। কীভাবে রাস উৎসবের সূচনা হয়েছিল, তাই নিয়ে একটি লোককথা রয়েছে। একটি অলৌকিক ঘটনা থেকেই নিমতলার রাসের উৎপত্তি। রাসকমিটির কাছে থাকা পুরনো পুঁথি থেকে জানা গিয়েছে, ১০৮২ বঙ্গাব্দের এক গ্রীষ্মের দুপুরে পরশুরাম ব্রজবাসী নাম এক বৈষ্ণব একটি অষ্টধাতুর গোপালের মূর্তি নিয়ে নিমতলার পথ দিয়ে বৃন্দাবন যাত্রা করছিলেন। পথে নিমতলার শিলাবতীর নদীর পাশের একটি বকুল গাছের তলায় গোপালটি রেখে দিয়ে পরশুরাম ব্রজবাসী ভিক্ষের চাল রান্না করছিলেন। অপরিচিত এক বৈষ্ণব ভিক্ষুককে দেখে এলাকার মানুষের কৌতূহল হয়। তাঁরা ওই বকুলগাছের কাছে গিয়ে দেখেন, ব্রজবাসী রান্না করছেন। আর গোপাল মূর্তির গায়ে প্রখর রোদ সবে মাত্র লাগতে শুরু করেছে। ওই দৃশ্য দেখে স্থানীয় মানুষ কিছুটা অস্বস্তি বোধ করে গোপালকে গাছের ছায়ায় রাখার জন্য ব্রজবাসীকে পরামর্শ দেন। ব্রজবাসী তাঁদের বলেন, প্রভুর সমস্যা হলে তিনি নিজেই মুখটা রোদ থেকে সরিয়ে নেবেন। ওই কথা বলার কয়েক ‘দণ্ড’ পরেই গোপালের মুখটি আশ্চর্যজনক ভাবে রোদের বিপরীতে ঘুরে যায়।
নিমতলার স্থানীয় বাসিন্দা অলককুমার গুঁই, শুভ্রকান্তি দালাল, কৌশিককুমার গুঁই প্রমুখ বলেন, ‘আমরা পূর্বপুরুষদের মুখ থেকে শুনে আসছি ওই অলৌকিক ঘটনা দেখার পরই গ্রামের মানুষ পরশুরাম ব্রজবাসীকে আর নিমতলা ছেড়ে যেতে দেননি। অষ্টধাতুর গোপালকে নিমতলাতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে স্থাপিত হয় মন্দির। বরদা পরগনার রাজা শোভা সিং ওই অলৌকিক ঘটনার কথা শুনে নিমতলার ওই রাস মঠকে ৩৯ বিঘা জমি দান করেন। পরশুরাম ব্রজবাসীই হন প্রথম মহন্ত।’সেই থেকেই নিমতলায় রাস উৎসব হয়ে আসছে। এখন সেই রাস উৎসবের ব্যাপ্তি অনেকটাই ছড়িয়েছে। পরশুরাম ব্রজবাসীকে নিয়ে মোট ১১ জন মহন্ত ছিলেন। বাংলা ১৩৯৫ সালে শেষ মহন্ত গোরাচাঁদ গোস্বামী ৬৩ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর আর কোনও মহন্তকে নিয়োগ করা হয়নি। গোপাল-গোবিন্দ জিউ ট্রাস্টই ওই রাস পরিচালনা করে। প্রতি বছর রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫০টি পৌরাণিক মডেল তৈরি করা হয়। এবছরও পুকুরে নৌকা বিহার, সমুদ্রমন্থন সহ বিভিন্ন মডেল তৈরি করা হয়েছে। সাতদিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে অগণিত মানুষের সমাগম ঘটে। আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ এই উৎসবের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন।-নিজস্ব চিত্র
নিমতলার স্থানীয় বাসিন্দা অলককুমার গুঁই, শুভ্রকান্তি দালাল, কৌশিককুমার গুঁই প্রমুখ বলেন, ‘আমরা পূর্বপুরুষদের মুখ থেকে শুনে আসছি ওই অলৌকিক ঘটনা দেখার পরই গ্রামের মানুষ পরশুরাম ব্রজবাসীকে আর নিমতলা ছেড়ে যেতে দেননি। অষ্টধাতুর গোপালকে নিমতলাতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে স্থাপিত হয় মন্দির। বরদা পরগনার রাজা শোভা সিং ওই অলৌকিক ঘটনার কথা শুনে নিমতলার ওই রাস মঠকে ৩৯ বিঘা জমি দান করেন। পরশুরাম ব্রজবাসীই হন প্রথম মহন্ত।’সেই থেকেই নিমতলায় রাস উৎসব হয়ে আসছে। এখন সেই রাস উৎসবের ব্যাপ্তি অনেকটাই ছড়িয়েছে। পরশুরাম ব্রজবাসীকে নিয়ে মোট ১১ জন মহন্ত ছিলেন। বাংলা ১৩৯৫ সালে শেষ মহন্ত গোরাচাঁদ গোস্বামী ৬৩ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর আর কোনও মহন্তকে নিয়োগ করা হয়নি। গোপাল-গোবিন্দ জিউ ট্রাস্টই ওই রাস পরিচালনা করে। প্রতি বছর রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫০টি পৌরাণিক মডেল তৈরি করা হয়। এবছরও পুকুরে নৌকা বিহার, সমুদ্রমন্থন সহ বিভিন্ন মডেল তৈরি করা হয়েছে। সাতদিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে অগণিত মানুষের সমাগম ঘটে। আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ এই উৎসবের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন।-নিজস্ব চিত্র



