Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাড়ে ৪ কোটি হাতিয়ে ধৃত বিজেপির যুবনেতা

সাড়ে ৪ কোটি হাতিয়ে ধৃত বিজেপির যুবনেতা
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সাইবার প্রতারণার নয়া কৌশল ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। দু’টি শব্ধবন্ধে কাঁপছে এখন গোটা দেশ। এই পদ্ধতিতে দেড়শো কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছে সাইবার ঠগরা। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজন যে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দিতে হচ্ছে সচেতনতার পাঠ। সম্প্রতি ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘ভারতীয় আইনে ডিজিটাল গ্রেপ্তারের মতো কোনও ব্যবস্থা নেই।’ এর মধ্যেই মোদির দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল কেরলের বাম সরকারের পুলিস। কৃষ্ণগঞ্জে রীতিমতো অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হল বিজেপির এক যুবনেতাকে। যার বিরুদ্ধে ‘ডিজিট্যাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদ পেতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। রবিবার রাতে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে কেরল পুলিস ওই পদ্মনেতাকে গ্রেপ্তার করে। 
Advertisement
ঘটনাটি জানাজানি হতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে নদীয়া জেলাজুড়েই। সুযোগ বুঝে গেরুয়া শিবিরকে একহাত নিয়েছে বিরোধীরা। তৃণমূল তো সরাসরি ‘চিটিংবাজরাই বিজেপি করে’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে। কংগ্রেসের কটাক্ষ,  প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে দেশবাসীকে সচেতন করছেন। অথচ, তাঁরই দলের নেতা এই প্রতারণা করছেন। এটা ওদের আসল চেহারা। সিপিএমের তরফে বলা হয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। তদন্ত করে  কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।  
পুলিস জানিয়েছে, ধৃত ওই যুবনেতার নাম লিঙ্কন বিশ্বাস। তিনি কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের মণ্ডল-২ এর যুব মোর্চার সভাপতি। চৌগাছা এলাকা থেকে তাঁকে ধরা হয়। সোমবার কৃষ্ণনগর আদালতে তুলেই ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যায় কেরল পুলিস। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণার অভিযোগ ছিল লিঙ্কনের বিরুদ্ধে। একটি মামলার তদন্তে কেরল পুলিস তাঁর যুক্ত থাকার তথ্য পায়। সেই মতো যৌথ অভিযানে লিঙ্কনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকটি সাইবার ক্রাইমে অভিযুক্ত জড়িত বলে অনুমান করা হচ্ছে।’
পুলিস সূত্রে খবর, কেরলের বেটি জোসেফ নামে এক বিধবা মহিলার কাছে একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে। হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করা হয়। দিল্লি পুলিসের পরিচয় দিয়ে বলা হয়, ‘আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের টাকা মানব পাচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই অপরাধে আপনিও যুক্ত।’ বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রতারিতর মহিলার আধার কার্ডের নম্বরটাও বলে দেয়। একই সঙ্গে তাঁকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হল বলে জানানো হয়। স্বাভাবিকভাবেই জোসেফ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। 
তার পরেই খেলা শুরু করে দেয় প্রতারকরা। জোসেফকে  ‘বেকসুর খালাস’ পাওয়ার পন্থাও বলে দেয় তারা। মানব পাচারে ব্যবহৃত কালো টাকা সাদা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। ভয় পেয়ে ওই মহিলা তাঁর দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকদের পাঁচটি অ্যাকাউন্টে মোট ৪ কোটি ১১ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে পুলিসের দ্বারস্থ হন জোসেফ। ঘটনাটি অক্টোবর মাসের। অভিযোগ পেয়েই তদন্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে কেরল পুলিস। 
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, টেকনিক্যাল এভিডেন্সের উপর ভর করে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।  যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল, তার আইএমইআই নম্বর, যে ওয়াইফাই ব্যবহার করে ফোন করা হয় হয়েছিল, সেগুলির সঙ্গে লিঙ্কনের সরাসরি যোগ মেলে। আর্থিক লেনদেনেও লিঙ্কনের যোগ পাওয়া গিয়েছে। 
লিঙ্কনের এক বন্ধু আশিস বিশ্বাসও সাইবার প্রতারণায় যুক্ত বলে তদন্তে উঠে আসছে। আশিস কেরলে থাকে। তবে, জোসেফের মামলায় তার যোগ নেই বলে পুলিস জানিয়েছে। 
লিঙ্কনের গ্রেপ্তারিতে বেশ বিড়ম্বনায় জেলা বিজেপি। মুখরক্ষায় যুবনেতার ভাগ্য তদন্তের উপর ছেড়ে দিয়েছেন কৃষ্ণগঞ্জের বিজেপি নেতা অমিত প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘লিঙ্কন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নয়। ও খুব সাধারণ ছেলে। কোনও কারণে হয়তো প্রতারণা ফাঁদে পড়ে গিয়েছে। তদন্ত যত এগোবে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। আইন আইনের পথেই চলবে।’ 
কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি শুভদীপ সরকার বলেন, ‘যাঁরা বিজেপি করেন তাঁরা চোর চিটিংবাজ। লিঙ্কন হঠাৎ করেবড়ো লোক হয়ে যাওয়া এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়েছিল। গ্রেপ্তারিতে প্রমাণ হয়ে গেল ও মস্ত প্রতারক।’ 
নদীয়া জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র সিলিভি সাহা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেই ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশবাসীকে সতর্ক করছেন। তাঁর দলের যুবনেতা কি না, প্রতারণায় যুক্ত। এটাই বিজেপির আসল চেহারা।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ