নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আর মাত্র ৪৫ দিনের পেট্রল রয়েছে মজুত। রাজ্যগুলিকেও রেশনে দেওয়ার তিন মাসের চাল-গম এখনই একসঙ্গে তুলে নিতে দেওয়া হল নির্দেশ। আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাণিজ্য মন্ত্রকে হয়েছে বিশেষ বৈঠক। এরপরও ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতে যাতে কোনোরকম প্যানিক বা আতঙ্ক তৈরি না হয়, তার জন্য সংবাদ মাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার খবরের ওপর বিশেষ নজরদারি করছে কেন্দ্র। কোথায়, কীভাবে খবর পরিবেশন হচ্ছে, তার উপর বিশেষ নজর রাখতে তথ্য-সম্প্রচারমন্ত্রক বিশেষ ইউনিট তৈরি করে কাজে নেমেছে। সব মন্ত্রককেই ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট থেকে খসড়া কনটিনজেন্সি প্ল্যান তৈরি করতে বলা হয়েছে।
আমেরিকার মদতে ইজরায়েল যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু খামেনেইকে হত্যা করেছে, তাতে ভারতেও শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাই খামেনেইয়ের হত্যার সমালোচনা করে কোথায় কী কর্মসূচি হচ্ছে, তার ওপর নজরদারি জোরদার করেছে কেন্দ্র। একইভাবে আপদকালীন প্রস্তুতিই সেরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানির তেল আসা আটকে গিয়েছে। ফলে চাপ বাড়ছে ভারতের। যদিও এই পরিস্থিতিতে ভোরতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে রাশিয়া। আমেরিকার চাপে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেছিল নয়াদিল্লি। এখন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাশিয়া জানিয়েছে, তাদের তৈলবাহী জাহাজ ভারতের কাছাকাছিই রয়েছে। চাইলে এক সপ্তাহের মধ্যে ৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতকে দেওয়া সম্ভব।
দেশে এখন যে পরিমাণ পেট্রলিয়াম মজুত রয়েছে, তাতে আর ৪০-৪৫ দিন চলবে বলেই হিসাব কষেছে কেন্দ্র। সরকার যদিও অন্য দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আনার তোড়জোড় করছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীদিনে রান্নার গ্যাসের জোগানেও টান পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। আগামী এক মাসের এলপিজি মজুত রয়েছে সরকারের কাছে। ফলে যুদ্ধ ইরান-ইজরায়েলের হলেও আরব দেশগুলির উপর হামলায় ভারতে পেট্রল, রান্নার গ্যাসে টানাটানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাশাপাশি রেশনের বরাদ্দ তিন মাসের খাদ্যশস্য এখনই তুলে নিতে সব রাজ্যের খাদ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে খাদ্যমন্ত্রক। যদিও এর সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও আচমকাই রাজ্যগুলিকে তিন মাসের চাল-গম একসঙ্গে তুলে নেওয়ার নির্দেশে প্রশ্ন উঠছেই।