Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতার নতুন আতঙ্ক চন্দ্রবোড়া, প্রতি মাসে গড়ে উদ্ধার শতাধিক, হারিয়ে যাচ্ছে শাঁখামুটি

চন্দ্রবোড়া বিষধর। পূর্ণবয়স্ক চন্দ্রবোড়ার দাঁত প্রায় ১ ইঞ্চি লম্বা। ১০ জন মানুষকে কামড়ালে সফলভাবে ৮ জনের দেহে বিষ ঢালতে সক্ষম। এই সাপই এখন মহানগরের নতুন আতঙ্ক।

কলকাতার নতুন আতঙ্ক চন্দ্রবোড়া, প্রতি মাসে গড়ে উদ্ধার শতাধিক, হারিয়ে যাচ্ছে শাঁখামুটি
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: শুধুমাত্র কলকাতা শহর থেকে প্রতিমাসে উদ্ধার হচ্ছে একশোরও বেশি চন্দ্রবোড়া!

Advertisement

চন্দ্রবোড়া বিষধর। পূর্ণবয়স্ক চন্দ্রবোড়ার দাঁত প্রায় ১ ইঞ্চি লম্বা। ১০ জন মানুষকে কামড়ালে সফলভাবে ৮ জনের দেহে বিষ ঢালতে সক্ষম। এই সাপই এখন মহানগরের নতুন আতঙ্ক। শাঁখামুটি, কেউটে, গোখরোকে পিছনে ফেলে দ্রুত বংশবিস্তার করছে তারা। প্রতিবছর কামড়াচ্ছে অনেককে। ঘটছে মৃত্যুও।
রাজ্য বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউটাউন, সল্টলেক সহ কলকাতার বেহালা, মেটিয়াবুরুজ, ইএম বাইপাস, যাদবপুর, জোকা ইত্যাদি অঞ্চল থেকে গড়ে ৬৫টির মতো চন্দ্রবোড়া উদ্ধার করছে সরকারের রেসকিউ টিম। এর পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও উদ্ধার হচ্ছে প্রায় ৪০টির মতো চন্দ্রবোড়া। সবমিলিয়ে এই সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ধরা পড়ছে অন্যান্য সাপও। তবে সেগুলির সংখ্যা কম। গোখরো উদ্ধার হচ্ছে মাসে ৫টির মতো। কেউটে প্রায় ২০টি। শাঁখামুটি নেই বললেই চলে। মাঝেমধ্যে ইতিউতি পাওয়া যায়।
নিউটাউনে চন্দ্রবোড়ার উৎপাত বহুদিনের। দু’বছর আগে চন্দ্রবোড়ার কামড়ে স্মার্টসিটিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার মধ্যে উত্তরপ্রদেশের এক তরুণ ছিলেন যিনি কলকাতায় এসেছিলেন প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে। ডাউনটাউন মলের পাশে তাঁকে ছোবল দিয়েছিল একটি চন্দ্রবোড়া। 
দু-দু’বার চন্দ্রবোড়ার ছোবল খেয়েও বেঁচে এসেছেন সর্প বিশেষজ্ঞ চন্দন ক্লেমেন্ট সিং। তিনি বলেন, ‘কলকাতায় ব্যাপক হারে বাড়ছে। এরা যদি ধমনীতে কামড়ায় তাহলে বাঁচানো মুশকিল। ছোটো চন্দ্রবোড়াও কম বিপজ্জনক নয়। এই প্রজাতি শত্রু চিহ্নিত করতে পারে না বলে সম্পূর্ণ বিষ ঢেলে দেয়। চন্দ্রবোড়া কামড়েছে কি না বোঝার জন্য চিকিৎসকরা ২ থেকে ৩ মিলিলিটার রক্ত নিয়ে ‘২০ ডব্লু বি সি টি’ পরীক্ষা করেন। সাধারণ মানুষের রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এই সাপ কামড়ালে দুধ কেটে ছানা হওয়ার মতো রক্ত কেটে যায়। তবে কামড়ানোর ১০০ মিনিটের মধ্যে ১০০ মিলিলিটার অ্যান্টিভেনাম দিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে বাঁচানো সম্ভব।’
অন্যান্য বিষধর সাপের তুলনায় চন্দ্রবোড়ার সংখ্যা কেন বাড়ছে? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, গোখরো, কেউটে সহ অন্য সাপের ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। তবে তাদের বংশবিস্তারের হার কম। কারণ ওদের ডিম বিভিন্ন প্রাণী বা পাখি খেয়ে নেয়। চন্দ্রবোড়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্যরকম। ওদের ডিম পেটের ভিতরে ফুটে সরাসরি বাচ্চা বের হয়। ফলে বংশবিস্তারের হার বেশি। চন্দ্রবোড়া একসঙ্গে ২৫ থেকে ৪০টি বাচ্চা দেয়। সেগুলির প্রায় সবকটিই বেঁচে থাকে। ফলে অন্যান্য বিষধর সাপের তুলনায় দ্রুত বাড়ে চন্দ্রবোড়ার বংশ। বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘কলকাতাতে প্রতিমাসে একশোর কাছাকাছি মিলছে। বিষয়টি উদ্বেগের। আমরা উদ্ধার করে অন্য জায়গায় ছেড়ে দিচ্ছি। মানুষকে সচেতন করার কাজও চলছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ