নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুদৃশ্য স্টল, বাতিস্তম্ভ। খাওয়া-দাওয়া বা একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য বসার জায়গা। কলকাতার ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই হবে এমনভাবে তৈরি হয়েছে পরিবেশ। সরকারি অর্থে তৈরি শহরের প্রথম ‘ফুড স্ট্রিট’ উদ্বোধনের অপেক্ষায়। ৩০ জুলাই বিকেলে রাসেল স্ট্রিটে চালু হওয়ার কথা এই খাদ্য সরণির।
সেখানকার পুরনো ফুড ভেন্ডাররাই এই নয়া দোকানগুলিতে পুনর্বাসন পাচ্ছেন। ফুড স্ট্রিট হতে চলেছে সম্পূর্ণ প্লাস্টিক ও থার্মোকল মুক্ত। এখানে অগ্নি নির্বাপণের বিধিও মানা হবে কঠোরভাবে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনও দোকান স্টোভ বা গ্যাসে রান্না করতে পারবে না। রান্না করতে হবে ইন্ডাকশন ওভেনে।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, রাসেল স্ট্রিটে মোট ৩২টি দোকান তৈরি করা হয়েছে। তার মধ্যে আপাতত ৩০টি সেখানকার হকারদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। যাঁরা শুধুমাত্র স্ট্রিট ফুড সহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবসা করেন তাঁরাই তা পাবেন। বাকি দু’টি দোকান পরে অন্য হকারদের দেওয়া হবে। যেদিন রাসেল স্ট্রিটের এই ‘ফুড স্ট্রিট’ উদ্বোধন করা হবে, সেদিন সেখানকার ৩০ হকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে নতুন ভেন্ডিং সার্টিফিকেট। সার্টিফিকেট পিছু ৮০০ টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বার্ষিক এই ৮০০ টাকার বিনিময়েই সার্টিফিকেট রিনিউ বা পুনর্নবীকরণ করতে পারবেন হকাররা।
শহরের বুকে পুরসভা আরও দু’টি এই ধরনের ফুড স্ট্রিট তৈরি করেছে। একটি টালা ঝিল পার্ক ও টালা জিমখানা গ্রাউন্ডের মধ্যবর্তী রাস্তায়। অপরটি তৈরি হয়েছে পাটুলি ঝিল পাড়ে। এই দু’টি অবশ্য এখনই উদ্বোধন হচ্ছে না। পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাসেল স্ট্রিটে পুরনো খাবারের দোকানদারদেরই নতুন স্টলগুলিতে পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাকি দু’টি ফুড স্ট্রিটে নতুন দোকানদাররা পাবেন স্টল। আগ্রহীদের থেকে আবেদনের ভিত্তিতে লটারি করে সেই দোকানগুলি বণ্টন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘এই তিনটি ফুড স্ট্রিটকেই আমরা শহরের মডেল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছি। সেখানে অগ্নি নির্বাপণ বিধি কড়াভাবে মেনে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে সেখানকার দোকানগুলিতে স্টোভ বা গ্যাসে রান্না হবে না। ইন্ডাকশন ওভেন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বা থার্মোকল যেগুলি পরিবেশের দূষণ ঘটায় তেমন জিনিসও ব্যবহার করা যাবে না। সেই শর্তেই স্টলগুলি ভাড়া দেওয়া হবে। শুধু রাসেল স্ট্রিটের দোকানগুলি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। সেগুলিতে ওখানকার পুরনো দোকানদাররা পুনর্বাসন পাচ্ছেন। শুধু তাঁদের দেওয়া হকার শংসাপত্র বছর বছর রিনিউ করতে হবে।’ উল্লেখ্য পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের তরফে খাদ্য সুরক্ষা খাতে প্রাপ্ত তিন কোটি টাকায় পুর-বস্তি বিভাগ এই তিনটি ফুড স্ট্রিট বানিয়েছে।