Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাশ আলগা পুরসভার, রাতের টোটোয় লাগামছাড়া ভাড়া, হয়রানির মুখে যাত্রীরা

রাশ আলগা পুরসভার, রাতের টোটোয় লাগামছাড়া ভাড়া, হয়রানির মুখে যাত্রীরা
  • ২৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: রবিবার রাত প্রায় ১১টা। কিছুক্ষণ আগেই স্টেশনে ঢুকেছে পুরুলিয়া এক্সপ্রেস। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও পড়ছে। পুরুলিয়া স্টেশনের বাইরে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে টোটো। এক যাত্রী এসে টোটো চালককে জিজ্ঞাসা করলেন, দাদা ভাটবাঁধ যাবেন? উত্তরে চালক জানালেন, ১৫০ টাকা ভাড়া লাগবে। ভাড়া শুনেই কার্যত আঁতকে উঠেছিলেন ওই যাত্রী। মেরেকেটে তিন কিলোমিটার রাস্তার ভাড়া কি না ১৫০ টাকা? রেগেমেগে শুনিয়েই দিলেন, বাইরের লোক পেয়েছেন নাকি? পুরুলিয়ার বটে। এনিয়ে দু’জনের মধ্যে খানিকক্ষণ কথা কাটাকাটিও হল। অবশেষে অন্য একটি টোটো চালকের সঙ্গে অনেক দরদাম করার পর ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছলেন ওই ব্যক্তি।

Advertisement

পুরুলিয়া এক্সপ্রেস ধরে প্রতিদিন রাতে শতাধিক যাত্রী স্টেশনে নামেন। দিনের অন্যান্য সময় পুরুলিয়া স্টেশন থেকে বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল, নডিহা, ভিক্টোরিয়া স্কুলের ভাড়া মেরেকেটে গোটা ২০ টাকার বেশি নয়। কিন্তু, রাতে গন্তব্যে পৌঁছতে গিয়ে যাত্রীদের অস্বাভাবিক ভাড়ার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাঁদের অভিযোগ, রাতে এলাকার বিভিন্ন রুটের টোটো চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছেন। পুরুলিয়া স্টেশন থেকে শহরের যেকোনও জায়গায় যেতে গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি টাকা। এরজেরে ব্যাপক সমস্যায় পড়ছেন নিত্যযাত্রীরা।
প্রায়শই ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কলকাতা যান পুরুলিয়ার বাসিন্দা রমেশ মাহাত, সুনীল দাস, অমিত বাউরিরা। তাঁরা বলেন, রাতে স্টেশনে নামার পর টোটো ছাড়া গন্তব্যে পৌঁছনোর অন্য কোনও উপায় থাকে না। কিন্তু এমন আকাশছোঁয়া ভাড়া চাওয়া হয় যে, তাতে আমআদমির নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়। টোটো চালকদের এই দাদাগিরির জন্য বাসিন্দারা অবশ্য পুরুলিয়া পুরসভার দিকেই আঙুল তুলছেন। তাঁদের অভিযোগ, রাতে টোটোর ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় না পুরসভা। বরং পুরসভার কাউন্সিলারদের একাংশের মদতেই শহরে টোটোর বাড়বাড়ন্ত। পুরসভা যতক্ষণ না টোটোর ভাড়া বেঁধে দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হবে না।
এক চালক বলেন, দিনেরবেলায় রুটে এমনিতেই অনেক টোটো চলে। সারাদিন যে ভাড়া হয়, তাতে ঠিকমতো আয় হয় না। তাই রাতে সেই ভাড়া পুষিয়ে নিই। আর এক টোটো চালক বলেন, পুরুলিয়া এক্সপ্রেস কোনওদিন রাত ১১টায় ঢুকছে। আবার কোনওদিন মধ্যরাতে। যাত্রীদের স্বার্থে আমরা এতক্ষণ ধরে জেগে বসে থাকি। একটু বেশি ভাড়া তো নেবই। যাত্রীদের অবশ্য অভিযোগ, একটু ভাড়া বেশি নিলে সমস্যা থাকে না। দিনেরবেলা যে পথের ভাড়া মাত্র ২০ টাকা, রাতে তার জন্য ১০০ টাকা চাওয়া হলে তো প্রশ্ন উঠবেই।
শুধু তাই নয়, পুরুলিয়ায় বেড়াতে আসা পর্যটকদেরও রাতের টোটোয় অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়। হোটেলের দূরত্ব হয়তো এক কিলোমিটার। অথচ সেখানে নিয়ে যেতে যাত্রীদের পাঁচ কিলোমিটার ঘোরানো হয়। তারপর চাওয়া হয় মোটা টাকা ভাড়া। পুরসভার চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিযোগ আমার কানে আসছে। শীঘ্রই এব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ