নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: হাসপাতাল চত্বর না গোয়াল! দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বরজুড়ে দিনভর একাধিক গোরু অবাধ বিচরণ করছে। অভিযোগ, জরুরি বিভাগের সামনে, আউটডোর চত্বরে গোরুর দলের অবাধ বিচরণে বিপাকে পড়ছেন রোগীর পরিজন সহ চিকিৎসক ও নার্সরা। হাসপাতাল চত্বরে থাকা বোটানিক্যাল গার্ডেনের অস্থিত্বও সঙ্কটে। গোরুর উৎপাতে দিশেহারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুবরাজপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছে। বিএমওএইচ সলমন মণ্ডল বলেন, বছর কয়েক ধরেই হাসপাতাল চত্বরে কমবেশি পঁচিশটির বেশি গোরু ঘোরাফেরা করছে। কেউ বা কারা ভোর হতে না হতেই গোরুগুলিকে হাসপাতাল চত্বরে ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছে। রোগীর পরিজন, চিকিৎসক ও নার্সরা সমস্যায় পড়ছেন। হচ্ছে। গোরুর মালিকদের খুঁজে বের করতে পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছি। প্রথম ধাপে গোরুর মালিকদের সতর্ক করা হবে। তারপরও হাসপাতাল চত্বরে গোরুর উৎপাত হলে মালিকদের জরিমানা করা হবে। গোরুগুলি পাকড়াও করে খোঁয়াড়ে পাঠানো হবে।
দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতাল সীমানা প্রাচীর ঘেরা সুবিশাল জমিতে অবস্থিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গোরুর মালিকেরা সকলের নজর এড়িয়ে নিয়মিত হাসপাতাল চত্বরে গোরু ছেড়ে দিয়ে যান। এরপর দিনভর হাসপাতালে গোরুর দৌরাত্ম্য চলতে থাকে। কখনও জরুরি বিভাগের সামনে, কখনও আউটডোর চত্বরে গোরুর দল অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রতীক্ষালয়েও গোরু চরে বেড়ায়। বৃষ্টি হলেই সেখানে গোরুর আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। যত্রতত্র গোবর ছড়িয়ে থাকে। অসাবধান হলেই আছাড় খাওয়ার আশঙ্কা। গোরুগুলো বোটানিক্যাল গার্ডেনের গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু মূল্যবান গাছও নষ্ট করে ফেলেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহুবার গোরুর মালিকদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। দিনভর হাসপাতাল চত্বরে গোরু দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর আর নজরে পড়ে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমান, সন্ধের পর মালিকরা গোরুগুলিকে গোয়ালে ফিরিয়ে নিয়ে যান। যদিও কোনও কোনও সময় রাতেও প্রতীক্ষালয়ে গোরু লক্ষ্য করা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে অভিযোগ পেয়ে গোরুর মালিকদের খোঁজে পুলিস তৎপর হয়েছে।