Bartaman Logo
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় শহরকে টেক্কা দিচ্ছে গ্রামাঞ্চল, চিন্তায় হুগলির মানুষ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরিচিত ধারণাকে বদলে দিচ্ছে হুগলি। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে চালু কথা ছিল, এটা শহুরে এলাকার সমস্যা। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গু আক্রান্তের নিরিখে হুগলির গ্রাম টেক্কা দিয়েছে শহরকে।

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় শহরকে টেক্কা দিচ্ছে গ্রামাঞ্চল, চিন্তায় হুগলির মানুষ
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরিচিত ধারণাকে বদলে দিচ্ছে হুগলি। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে চালু কথা ছিল, এটা শহুরে এলাকার সমস্যা। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গু আক্রান্তের নিরিখে হুগলির গ্রাম টেক্কা দিয়েছে শহরকে। শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ প্রায় তিনগুণ বেশি। শুধু শহর লাগোয়া গ্রাম নয়, দূরবর্তী গ্রামও ডেঙ্গুর দাপটে কাঁপছে। যদিও সার্বিকভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ২০২৫ সালের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গ্রামীণ এলাকায় ডেঙ্গু ছড়ানোয় মাথাব্যথা বেড়েছে প্রশাসনের। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাছাই করা গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামসম্পদ কর্মী ও সুপারভাইজারদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডেকেছে হুগলি জেলা পরিষদ। 

Advertisement

কী কারণে শহরকে টেক্কা দিচ্ছে গ্রাম? গ্রামীণ এলাকা থেকে উঠে আসছে এক ভয়াবহ তথ্য। সরকারি উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই থেকে শুরু করে সব কাজেই গ্রামসম্পদ কর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে তাঁদের পক্ষে জমা জল থেকে লার্ভার বাড়বাড়ন্ত ইত্যাদি দেখাশোনার কাজে নজরদারি আর আগের মত নেই। তাঁদের অলক্ষ্যেই গ্রামে গ্রামে বেড়েছে ডেঙ্গুর দাপট। যদিও একথা মানতে নারাজ হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া। তিনি বলেন, বর্তমানে হুগলির গ্রামাঞ্চলে আবাসন সংস্কৃতি রমরমিয়ে চলছে। ফলে প্লাস্টিকের ছড়াছড়ি বেড়েছে। সেই প্লাস্টিকই নিকাশির পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। আমরা গ্রামসম্পদ কর্মীদের বৈঠকে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছি। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তথা বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার বলেন, গত বছর এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রবল দাপট ছিল। এবার তা তুলনায় শুধু কম নয়, নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে। আমরা গ্রাম-শহরের মধ্যে বিভাজন করতে চাই না। সামগ্রিকভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনকে যথাযথ ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর একদিনে ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা ২৭ জন। আর শহুরে রোগীর সংখ্যা মাত্র আট। তারমধ্যে বাঁশবেড়িয়া ও কোন্নগরে একজন করে এবং চাঁপদানি, চন্দননগর ও শ্রীরামপুরে দু’জন করে রোগী পাওয়া গিয়েছে। হুগলির গ্রামাঞ্চল পোলবা ও মগরায় আটজন করে ডেঙ্গু রোগী মিলেছে। ডেঙ্গু ছড়িয়েছে ধনেখালি, বলাগড়, হরিপাল, জাঙ্গিপাড়া, সিঙ্গুর, শ্রীরামপুর-উত্তরপাড়া, চণ্ডীতলা, তারকেশ্বর ব্লকে। গত দু’সপ্তাহের হিসাব ধরলে গ্রামের পরিসংখ্যান চমকে দেওয়ার মতো। সেখানে ডানকুনি, রিষড়া ও শ্রীরামপুর পুরসভা এলাকায় কয়েকজন রোগীর সন্ধান মিলেছে, যা উদ্বেগের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ