সংবাদদাতা, মানিকচক: ভূতনিতে জল সামান্য কমলেও আতঙ্ক কাটেনি। এখনও বহু এলাকা জলমগ্ন। অসহায় মানুষ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বাড়ির ছাদের তলায়। ত্রিপল টাঙিয়ে। কেউ পাটকাঠির ছাউনি বানিয়ে। অনেকে আবার আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে। এই অবস্থায় বানভাসিদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে নজর দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। জলমগ্ন দক্ষিণ চণ্ডীপুরের হাসপাতালকে নিয়ে আসা হয়েছে উত্তর চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতে। সেই পঞ্চায়েতও প্রায় এক গলা জলে ডুবে। তার মধ্যেই চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসছেন বানভাসিরা। দুর্গতদের কাছে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও আধিকারিকরাও। দুর্গতরা সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন কি না তা শনিবার খতিয়ে দেখেছেন মালদহের অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হেম নারায়ণ ঝা। এমনকী, নৌকায় চেপে জলবন্দি বহু পরিবারের কাছে গিয়ে দুর্গতদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় করেন অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।
এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ভূতনির বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি বলেই দাবি দুর্গতদের। এখনও জলবন্দি লক্ষাধিক মানুষ। শনিবার ভূতনির প্রায় ৫ ইঞ্চি জল কমলেও রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, থানা, স্বাস্থ্য কেন্দ্র জলমগ্ন। প্রশাসনের তরফে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে সবাইকে। গর্ভবতীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যপরিষেবা সচল রাখতে দক্ষিণ চণ্ডীপুরে থাকা হাসপাতালকে স্থানান্তর করা হয়েছে উত্তর চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতে। সেখানেও বুকসমান জল উপেক্ষা করেও পরিষেবা সচল রেখেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। একজন চিকিৎসক, দু’জন নার্স সহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর। পুরো এলাকা জলমগ্ন থাকলেও প্রতিদিন গড়ে অন্তত ২০০ জন পরিষেবা নিতে আসছেন। শুধু হাসপাতালে বসেই চিকিত্সা নয়, নৌকা নিয়েও দুর্গতদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে ওষুধপত্র- সমস্ত কিছুই দেওয়া হচ্ছে নৌকায় চেপে বানভাসিদের কাছে গিয়ে। এদিন মালদহের অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হেমনারায়ণ নৌকায় চেপে উত্তর চণ্ডীপুরে যান। সেখানে গিয়ে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। রোগীরা সঠিক পরিষেবা পাচ্ছেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখেন তিনি।
এরপরই বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। অনেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখেন। লিখে দেন বিভিন্ন ওষুধপত্র। বানভাসিদের কাছে ওষুধপত্র পৌঁছে দেওয়ারও দায়িত্ব নেন তিনি। হেমনারায়ণের কথায়, রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত ধরনের স্বাস্থ্যপরিষেবা মজুত রয়েছে ভূতনিতে। নৌকা বোট থেকে নৌকা অ্যাম্বুলেন্স, এমনকি টিনের নৌকার মাধ্যমেও বাড়ি বাড়ি শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ভূতনিতে অনেকের পেটের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সকলকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। জলবাহিত বিভিন্ন রোগ যাতে না ছড়ায় সেদিকে কড়া নজর রয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের। নিয়মিত খোঁজখবরও নেওয়া হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র