সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা পরিকাঠামোহীন নার্সিংহোম ও অবৈধ ল্যাবরেটরিগুলির বিরুদ্ধে শক্ত হাতে পদক্ষেপ করল রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলা। স্বাস্থ্য দপ্তরের ছাড়পত্র না থাকা ও লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ না করায় রামপুরহাট মেডিকেল সংলগ্ন ক্যানেল মোড়ের একটি নামী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ঝাঁপ বন্ধ করে দিলেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, ক্যানেল মোড়ের ওই সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে এমআরআই, এফএনএসি, ইকো-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা হচ্ছিল। এমনকি রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে টাই-আপও রয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের। সরকারি হাসপাতালের রোগীদের এখানে পাঠানো হয়। সম্প্রতি সেখানকার এক চিকিৎসককে ঘিরে জোর বিতর্ক দেখা দেয়। খবর পেয়ে স্বাস্থ্যজেলার কর্তারা অভিযান চালাতেই ফাঁস হয়ে যায় অনিয়মের চিত্র। দেখা যায়, লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ না করিয়েই রমরমিয়ে চালানো হচ্ছিল সেন্টারটি! এরপরই স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এব্যাপারে সেন্টারটির মালিক তথা বর্ধমানের বাসিন্দা জিসানূর আহমেদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, অনেক আগেই লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করতে দেওয়া আছে। আসলে ওই চিকিৎসককে নিয়ে বিতর্ক ওঠায় সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া হল। তবে ওই চিকিৎসক রামপুরহাটের বহু জায়গায় প্যাক্টিস করেন।
এদিকে রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শোভন দে বলেন, ওই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কাগজপত্র ঠিক নেই এবং লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করা ছিল না। তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই সেন্টারের ভুয়ো চিকিৎসক নিয়ে আমার কাছে অভিযোগ আসেনি। চারদিকে অনেক ভুয়ো ডাক্তার আছে বলে শুনছি। বিষয়টি দেখছি।
উল্লেখ্য, রামপুরহাটের অলিগলিতে প্রতিনিয়ত গজিয়ে উঠছে বেআইনি নার্সিংহোম ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনো অনুমতি বা বৈধ কাগজ নেই। ল্যাব ও নার্সিংহোমগুলিতে নেই কোনো প্রশিক্ষিত নার্স, প্যারা-মেডিকেল কর্মী বা স্থায়ী চিকিৎসক। সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ব্যবহার হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের কিট। রোগীদের টানতে সক্রিয় রয়েছে দালাল চক্র ও কাটমানির ব্যবস্থা।