সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: টাকার লোভে অপারেশন করতে গিয়ে বহু রোগীকেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে ভুয়ো ডাক্তাররা। তারা সিজার থেকে গলব্লাডার সহ সমস্ত ধরনের অপারেশন করেছে। অনেক রোগী মারাও গিয়েছেন। কিন্তু, এতদিন কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখাননি। কারণ ভুয়ো ডাক্তাররা অত্যন্ত প্রভাবশালী। রোগীর মৃত্যুর পর কেউ যাতে প্রতিবাদ করতে না পারে তারজন্য আগেই তাদের নিজস্ব বাহিনী নার্সিংহোমে পৌঁছে যেত। ভয় দেখিয়ে তারা রোগীর পরিবারকে বাড়ি পাঠিয়ে দিত। স্বাস্থ্যদপ্তর তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া বর্ধমানের এক ব্যক্তি তাঁর নিজের প্রেসক্রিপশনে নামের আগে ডিজিও, এমডি ডিগ্রি লিখতেন। কখনও সখনও আবার তিনি নামের আগে এমএস লিখতেন। আবার কেউ নামের আগে গ্যাসট্রো এমডি লিখতেন। তাঁরা একসময় নার্সিংহোমে ওয়ার্ড বয় বা টেকনিশিয়ানের কাজ করতেন। রাতারাতি ‘ডাক্তার’ সেজে রোগীদের প্রাণ কাড়তে শুরু করেন।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে বর্ধমানের ১০৮শিব মন্দিরের কাছে ফাইমোসিস অপারেশন করতে গিয়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। ছোট অপারেশন করতে গিয়ে ওই শিশুর মৃত্যু হওয়ায় চিকিৎসক মহল অবাক হয়ে যায়। সাইদুল হক নামে এক ব্যক্তি অপারেশন করেন। স্বাস্থদপ্তর তদন্তে নেমে জানতে পারে, তিনি বিহারের একটি মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেছেন বলে মেডিকেল কাউন্সিলে নথি জমা করেছিলেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকদের সন্দেহ হয় তিনি আদৌ ডাক্তারি পাশ করেছেন কি না! তাই বিহার মেডিকেল কাউন্সিলের কাছে এব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। এরপরই বিহার মেডিকেল কাউন্সিল জানিয়ে দেয়, ওই ব্যক্তির রেজিস্ট্রেশন নম্বর জাল। মৃত শিশুর পরিবার ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে। পুলিশ এবং স্বাস্থ্যদপ্তর তদন্তে নামতেই ওই ‘ডাক্তার’ আর কোনও নার্সিংহোমে আসছেন না। তাঁর মোবাইলও সুইচ অফ হয়ে রয়েছে। বিজেপির চিকিৎসক সংগঠনের নেতা সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। আরও অনেক ভুয়ো চিকিৎসক রয়েছেন। তাঁরা কেউ ছাড় পাবেন না।
আধিকারিকদের দাবি, ভুয়ো চিকিৎসকদের খপ্পরে পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলার রোগীরা। দালালরা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে ভুয়ো চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে আসত। বিনিময়ে তারা মোটা টাকা কমিশন পেত। এখনও অনেক ভুয়ো ডাক্তার চিকিৎসা করছে। তারা বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে জাল ডাক্তাররা ছড়িয়ে রয়েছে। নথি যাচাইয়ের পর তাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হবে। জামিন অযোগ্য ধারা যোগ করা হবে। ইতিমধ্যে শতাধিক ভুয়ো ডাক্তারের নাম পাওয়া গিয়েছে।