সংবাদদাতা, কান্দি: ছেলেধরা আতঙ্ক। তাই গ্রামে ভিক্ষা করতে এসে বিপাকে পড়েছেন ভিক্ষুকরা। সন্দেহের বশে ভিক্ষুকদের হয়রানি থেকে মারধরও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। যদিও কান্দি মহকুমা শাসক প্রদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটলে মুহূর্তে প্রশাসনকে জানানো দরকার। প্রতিটি থানাকে এনিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
কান্দি মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়ায় ছেলেধরা গুজব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে ভুয়ো ভিডিও পোস্ট করে ছেলেধরা গুজব তৈরি করা হচ্ছে। যার ফলে বাসিন্দাদের মধ্যে ছেলেধরা সন্দেহ দানা বাধছে। প্রকাশ্যে এর প্রভাবও পড়ছে বলে দাবি। সোমবার সালার থানার তালিবপুর গ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে একজনকে আটকে রেখে হয়রানি করা হয় বলে স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে। যদিও ইদের মাসে অপরিচিত ওই ব্যক্তিটি ভিক্ষা করতে এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে পুলিশ ওই ভিক্ষুককে উদ্ধার করে। আবার মঙ্গলবার দুপুরে সালার থানার আওচা গ্রামেও ছেলেধরা সন্দেহে এক ভিক্ষুককে হেনস্তা ও মারধর করার অভিযোগ ওঠে। স্যোশাল মিডিয়ায় এই ঘটনাও পোস্ট করা হয়েছে। পরে সালার থানার পুলিশ ওই ভিক্ষুককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ভিক্ষুকটি মানসিক ভারসাম্যহীন। গ্রামে ভিক্ষা করতে এসেছিলেন। এই ঘটনার কয়েকদিন আগে ভরতপুর থানার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামেও ছেলেধরা গুজব তৈরি হয়। ওইদিন রাতে এক মহিলাকে ছেলেধরা সন্দেহে হেনস্তার অভিযোগ উঠে। পুলিশ ওই মহিলাকেও উদ্ধার করে। এভাবেই গত দুই সপ্তাহ ধরে খড়গ্রাম থানার হরিপুর, বড়ঞা থানার বাউগ্রাম ও সুন্দরপুর গ্রামে একই ধরণের ঘটনা ঘটেছে। ফলে ভিক্ষুকরা চরম সমস্যায় পড়েছেন।
ভরতপুর থানার জোরগাছি গ্রাম থেকে শতাধিক ভিক্ষুক মহকুমার বিভিন্ন গ্রামে ভিক্ষা করতে যান। ওই গ্রামের ইয়াদুল হোসেন বলেন, ছেলেধরা আতঙ্কে প্রতিবেশি গ্রাম ছাড়া আর কোথাও ভিক্ষা করতে যাচ্ছেন না। ছেলেধরা সন্দেহ গ্রামের দুইজনকে হয়রানি করা হয়েছিল বড়ঞা থানা এলাকায়। এরপর থেকে বাইরে ভিক্ষা করতে যাওয়ার ঘটনা কমে গিয়েছে।