Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহু এলাকায় এখনও গুজব ছড়ানো চলছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর পুলিসের

বহু এলাকায় এখনও গুজব ছড়ানো চলছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর পুলিসের
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে পুলিসি তৎপরতায় গোটা সামশেরগঞ্জ শান্ত হয়েছে। উস্কানিমূলক খবর ছড়ানোর অভিযোগে এক হাজার ২০০টি ফেক অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছে পুলিস। তা সত্ত্বেও গুজব রটাতে সক্রিয় একাধিক চক্র। তিনদিন পরও কিছুতেই তাদের এই অপপ্রয়াসকে আটকানো যাচ্ছে না। একের পর এক গুজব ছড়াচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তবে, সাধারণ মানুষ এখন আর গুজবে সেভাবে কান দিচ্ছেন না। বিভ্রান্তিমূলক কোনও তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পেলেই সেটি যাচাই করতে পুলিস আধিকারিকদের ফোন করছেন। প্রতিটি ফোনকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। সরেজমিনে তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। এলাকার ছবি ও ভিডিও তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তাদের পাঠাচ্ছেন। সেগুলি পর্যালোচনা করে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ করছে পুলিস-প্রশাসন। তাতে সুফলও মিলছে। গুজব ছড়ালেও বড় কোনও অশান্তি দানা বাঁধতে পারছে না। 

Advertisement

বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে গুজব মোকাবিলায় আপাতত এই রণকৌশল নিয়ে চলছে পুলিস। পাশাপাশি, গুজব ছড়ানোর সূত্রকে খুঁজে পেতেওচলছে মরিয়া চেষ্টা। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বেশিরভাগ গুজব রটানো হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। জেলার বাইরে থেকেও উস্কানিমূলক পোস্ট করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্লাটফর্ম মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০টি প্রোফাইল ব্লক করছে পুলিসের সাইবার ক্রাইমের আধিকারিকরা। এগুলির সিংহভাগই ফেক। মূলত, এইসব প্রোফাইল থেকে নাগাড়ে অশান্তি ছড়ানোর উস্কানি দেওয়া হচ্ছিল। তার জেরেই পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে। 
বুধবারও জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার আনন্দ রায় গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি সর্বস্তরের  মানুষের কাছে অনুরোধ করছি, বাজারে এরকম গুজব ছড়াচ্ছে। কেউ গুজবে কান দেবেন না। গুজব ছড়িয়ে কোনও এলাকা উত্তপ্ত করবেন না। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।’ এদিন সকালে ধুলিয়ানের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে একটি দোকানে ‘আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে’ বলে খবর রটে যায়। সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ফোন পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পুলিসের শীর্ষ কর্তারা সেখানে পৌঁছয়। হাজির হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। দেখা যায়, ধুলিয়ান পুরসভার তৃণমূলের ভাইস চেয়ারম্যানের দাদার দোকানে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার জেরে আগুন লেগে যায়। কেউ অগ্নিসংযোগ করেনি বলে পুলিস জানিয়েছে। ওই ওয়ার্ডে কসমেটিক্সের একটি দোকান রয়েছে ওই ব্যবসায়ীর। তাঁদের সন্দেহ, বুধবার সকালে সেই দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
যদিও পুলিস সুপার বলেন, ‘একটা গুজব ছড়াচ্ছিল পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে। বলা হচ্ছিল কেউ বা কারা একটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এটা স্রেফ রটনা। সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। কারণ, দোকানের শার্টার নামানো ছিল। ভিতর থেকে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে মালিক দোকান খোলেন। পুলিস কাছেই ছিল। ওরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাইরে থেকে কেউ এসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। আমরা তিনটি টিম পাঠিয়ে সকাল ছ’টা ১৫ মিনিট  নাগাদ পুরো ঘটনাটির তদন্ত করেছে।’ 
স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘কিভাবে আগুন লাগল সেটা আমাদের কাছে খুব একটা পরিষ্কার নয়। যেখানে আগুন লেগেছে তার পাশেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে। পুলিস ক্যামেরায় ফুটেজ দেখে তদন্ত করুক। যদি কেউ আগুন লাগিয়ে থাকে, তাহলে তার শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে এলাকায় শান্তি ফিরেছে, এটা বড় কথা।’ বিধায়ক আরও বলেন, ইতিমধ্যে ধুলিয়ান পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলারদের বলেছি, যদি কেউ অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে বা এলাকায় যারা যারা অশান্তি করার চেষ্টা করেছে, তাদের তালিকা পুলিসের হাতে তুলে দিতে হবে। আমাদের এই ভালোবাসার শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অশান্তি চলতে পারে না।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ