নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভাঙড়ে তৃণমূল নেতা রজ্জাক খানকে খুনের ঘটনায় রবিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূলেরই এক নেতাকে। ধৃতের নাম মোফাজ্জেল মোল্লা। সে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কমিটির সদস্য। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাকে পাকড়াও করা হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। ভেড়ির টাকার বখরা নিয়ে গোলমালের জেরেই রজ্জাক খুন হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই খুনের ঘটনায় জড়িত বাকিদের খোঁজ চলছে।
দলীয় বৈঠক সেরে ফেরার সময় বৃহস্পতিবার রাতে খুন হন ভাঙড় চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি রজ্জাক খান। তাঁকে পরপর তিনটি গুলি করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় তাঁকে। এই ঘটনার সময় মোফাজ্জেলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে ক্যামেরার ফুটেজে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় একসঙ্গেই ছিলেন রজ্জাক ও মোফাজ্জেল। পরে রজ্জাক থেকে গেলেও সে চলে যায় ভাঙড় থানার দিকে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গুলি করার সময় ঘটনাস্থলেই রয়েছে মোফাজ্জেল। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনও তাই নির্দেশ করে। এরপর তাকে ডেকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঘটনার সঙ্গে যোগ মেলার পর তাকে গ্রেপ্তার করে লালবাজার। রবিবার তাকে বারুইপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক অভিযুক্তকে আটদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এদিকে, মোফাজ্জেল গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, আমরা প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছিলাম। অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় পুলিসকে ধন্যবাদ। এর পিছনে আর কারা রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেছেন, অভিযুক্ত মোফাজ্জেল তৃণমূলের কেউ নয়। এই ঘটনায় আইএসএফের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন শওকত।
তদন্তে নেমে পুলিস জেনেছে, ভাঙড় এলাকায় ভেড়ি থেকে দেদার টাকা উঠছে। এই ভেড়ির দখল নিজের হাতে রাখতে মরিয়া সবপক্ষ। জানা গিয়েছে, রজ্জাকের হাতেই সিংহভাগ ভেড়ির নিয়ন্ত্রণ ছিল। এখান থেকে বিপুল টাকা উঠত। অভিযোগ, এই টাকার ভাগ অন্যদের দিচ্ছিলেন না রজ্জাক। তা নিয়ে স্থানীয় এক গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলমাল হয় তাঁর। তখন তাঁকে হুমকি দেয় তারা। তারপরেও পরিস্থিতি না পাল্টানোয় তাঁকে গুলি করে খুন করা হয় বলে জানা গিয়েছে।