Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর নামে রাজনীতি করছে সিপিএম, অভিযোগ শাসক দলের

দোরগোড়ায় বিধানসভা ভোট। জনসংযোগের লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে ঘুঁটি সাজাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। ভাঙন কবলিত মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রে প্রভাব বাড়াচ্ছে সিপিএমও।

দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর নামে রাজনীতি করছে সিপিএম, অভিযোগ শাসক দলের
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: দোরগোড়ায় বিধানসভা ভোট। জনসংযোগের লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে ঘুঁটি সাজাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। ভাঙন কবলিত মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রে প্রভাব বাড়াচ্ছে সিপিএমও।

Advertisement

গঙ্গা ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে মানিকচক বিধানসভার হীরানন্দপুরের বড় কার্তিকটোলার কালুটোনটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলের ভাঙন কবলিত বাচ্চাদের জন্য বিশেষ পাঠশালার ব্যবস্থা করেছে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই। এর জন্য বেতন দিয়ে দু’জন শিক্ষকও রেখেছে তারা। মানিকচকের প্রাক্তন বিধায়ক ও পেশায় শিক্ষক সুবোধ চৌধুরীর নামে হয়েছে এই পাঠশালা। সেখানে এখন পড়ুয়ার সংখ্যা ১২০। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, পাঠশালা করা, দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর নাম করে রাজনীতি করছে সিপিএম। তৃণমূলের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রের বক্তব্য, পাঠশালা করেছে, ভালো কথা। কিন্তু ভাঙনের সময় যখন আমরা, প্রশাসন মাঠে ময়দানে নেমে কাজ করছিলাম, তখন সিপিএম কোথায় ছিল? এটা জাতীয় বিপর্যয়। আমরা যখন ভাঙন রোধের টাকা চেয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করি, তখন সিপিএম কোথায় থাকে?
মালদহের মানিকচক এবং রতুয়া-১ মূলত ভাঙনপ্রবণ ব্লক। এই দুই এলাকার হাজার খানেক মানুষ ভাঙনের ফলে গৃহহীন। অনেক পরিবার এখন বাঁধেই দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের বেশিরভাগের জন্য বাংলার বাড়ির প্রথম কিস্তির টাকা বরাদ্দ হলেও জমির অভাবে নির্মাণ করতে পারছেন না। এছাড়া, কাছের স্কুল নদীর গ্রাসে চলে যাওয়ায় দূরে কোথাও যেতে চাইছে না পড়ুয়ারা। 
২০২৫ সালের ভাঙনে মানিকচক ব্লকের কালুটোনটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় গঙ্গাগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। ওই স্কুলের পড়ুয়াদের আশেপাশের বিভিন্ন স্কুলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব বেশি। ফলে বাচ্চারা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না। তাই স্কুলছুট কমাতে এই পাঠশালার ভাবনা ডিওয়াইএফআইয়ের। সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউর মালদহ জেলা কমিটির সম্পাদক দেবজ্যোতি সিনহা বলেন, ভাঙনে প্রায় এক হাজার মানুষ গৃহহীন। গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছে স্কুল। সরকার এখনও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেনি। কিন্তু বাচ্চারা কেন শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে? তাই তাদের জন্য এই বিশেষ পাঠশালা। এর সঙ্গে ভোট বা জনসংযোগের কোনও সম্পর্ক নেই। 
সোমবার স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী এবং মাস্টারদা সূর্য সেনের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য কমিটির সভাপতি অয়নাংশু সরকার। তাঁর মন্তব্য, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র ছাত্রীদের জন্য এই পাঠশালা খুলেছি। সীমিত ক্ষমতার মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা করছি। মানুষের সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষকদের সাম্মানিকও দেওয়া হচ্ছে। 
এই পাঠশালায় উত্তর চণ্ডীপুর ও হিরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কালুটোনটোলা, কেশরপুর কলোনি এবং বসন্তটোলা এলাকার ভাঙন কবলিত পরিবারের বাচ্চারাই পড়তে আসছে। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ