নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিনি আবাসনের গেটের রক্ষী। বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে চেপে ট্যাক্স কনসালট্যান্ট কোম্পানির মালিক ঢুকলে সেলাম ঠুকতে ভুল হয় না তাঁর। সেই গাড়িই প্রাণ কাড়ল ৫১ বছর বয়সি নিরাপত্তারক্ষীর।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিনি আবাসনের গেটের রক্ষী। বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে চেপে ট্যাক্স কনসালট্যান্ট কোম্পানির মালিক ঢুকলে সেলাম ঠুকতে ভুল হয় না তাঁর। সেই গাড়িই প্রাণ কাড়ল ৫১ বছর বয়সি নিরাপত্তারক্ষীর।
বৃহস্পতিবার সকালে আলিপুরের অভিজাত আবাসনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন নিরাপত্তারক্ষী গোবিন্দ কয়াল (৫১)। নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার গড়িয়া স্টেশন রোডের বাসিন্দা তিনি। এদিন সকালের শিফটে কর্তব্যরত ছিলেন প্রৌঢ়। সকাল ১১টা বেজে ২০ মিনিটে ছাই রঙা ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) গাড়িটি আবাসনে ঢুকতে যায়। গাড়ির মালিক আবাসনেরই বাসিন্দা। গেট সম্পূর্ণভাবে খোলার আগে আচমকা গতি বাড়ায় সেই গাড়ি। নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার সময় পাননি রক্ষী।
সরাসরি লোহার গেট সহ নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কা মারে কাচ তোলা ইভি। ভেঙে যায় গেট। প্রায় ৭-৮ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন গোবিন্দ। মাথা ও শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর চোট লাগে। মাথা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অন্য নিরাপত্তারক্ষীরা প্রৌঢ়কে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা রক্ষীকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর পায় আলিপুর থানা। রক্ষীর মৃত্যুর ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে আলিপুর থানার পুলিশ। এদিন দুপুরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন আলিপুর থানা ও লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগের ফেটাল স্কোয়াডের আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। ঘাতক গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে আলিপুর থানা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চালককে। কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) দীপক সরকার বলেন, ধৃতের নাম মহেশ্বর ঠাকুর (৬১)। ওয়াটগঞ্জের বাসিন্দা তিনি। সূত্রের খবর, মালিক সেই সময় গাড়িতে ছিলেন না। মহেশ্বর গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
লালবাজার সূত্রে খবর, শহরে আবাসনে ঢুকতে গিয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা বিরল। আলিপুরের জাজেস কোর্টের ঠিক বিপরীতে অভিজাত আবাসনটি অবস্থিত। আবাসনের গেট ও ভিতরের একাধিক জায়গায় রয়েছে সিসি ক্যামেরা। সেগুলির যাবতীয় ফুটেজ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে ফেটাল স্কোয়াডের তদন্তকারীরা। প্রাথমিকভাবে তাতে যা ফুটেজ ধরা পড়েছে, তা আঙুল তুলছে চালকের উদাসীনতা ও বেপরোয়া মনোভাবের দিকেই। তিনটি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশের ব্যাখ্যা, আলিপুরের লালবাতি ক্রসিংয়ের দিক থেকে আসছিল গাড়িটি। আবাসনে ঢোকার জন্য জাজেস কোর্টের সামনে থেকে বাঁ দিকে টার্ন নেয় ইভি। আবাসনের দরজা তখন বন্ধই ছিল। কিছুক্ষণের জন্য বাইরে অপেক্ষা করে গাড়িটি। দ্রুত গেট খুলতে আসেন রক্ষী গোবিন্দ। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গেট সম্পূর্ণভাবে খোলার আগেই আচমকা গতি নেয় গাড়িটি। এই ফুটেজ থেকে তদন্তকারীদের বিশ্লেষণ, ইভি গাড়িটি অটোমেটিক। গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে হলে ব্রেক প্যাডেলে পা রাখতে হয়। সেটি ছাড়লে গাড়ি ধীর গতিতে এগতে শুরু করে। কিন্তু, আচমকা বেশি গতি বাড়ল কেন? পুলিশের অনুমান, ব্রেক ছেড়েই অ্যাক্সিলেটর প্যাডেলে প্রয়োজনের তুলনায় অত্যধিক চাপ পড়ে। তাতেই গেট সহ রক্ষীকে উড়িয়ে দেয় গাড়িটি।