Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাতারাতি বড়লোক হতেই কাশির সিরাপ পাচারে জড়ায় মৃত মামন

রাতারাতি বড়লোক হতেই কাশির সিরাপ পাচারে জড়ায় মৃত মামন
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কেরলে ৩৫ হাজার টাকার মাইনের কাজ ছেড়ে এসে চোরাচালানে জড়িয়েছিল বিস্ফোরণ কাণ্ডে নিহত মামন মোল্লা। রাতারাতি বড়লোক হতেই কাশির সিরাপ পাচারকারী দলের সদস্য হয় সে। সিরাপ বাংলাদেশে পাচার করলেই মিলত মোটা টাকা কমিশন। সাগরপাড়ার খয়েরতলায় মামন মোল্লার বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে বাংলাদেশের গ্রামের দূরত্ব মেরে কেটে চার কিলোমিটার। এতদিন ওই রাস্তাতেই চলত সিরাপ সহ মাদক পাচার। ইদানিং বিএসএফ সীমান্তের দিকে সরে যাওয়ায়, রুট বদল করে পাচারকারীরা। নতুন রুটে মাদক পাচার করতে গিয়ে অন্য দলের সঙ্গে রেষারেষি শুরু হয় তাদের। সেই রুটের দখল নিতেই বাড়িতে বোমা বাঁধতে গিয়েই ২১ বছর বয়সে প্রাণ হারাল মামন। 
Advertisement
রবিবার রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সাগরপাড়ার খয়েরতলা এলাকা। এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। মামন ছাড়াও দুই কুখ্যাত মাদক কারবারি সাকিরুল সরকার ও মুস্তাকিন শেখ বিস্ফোরণে ঝলসে যায়। ঘটনার পর দুদিন কেটে গেলেও থমথমে রয়েছে গোটা গ্রাম। বসেছে পুলিস পিকেট। মামনের বাড়ির দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না গ্রামবাসীদের। 
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল তা বোঝার জন্য ফরেন্সিক পরীক্ষার দরকার। ওই টিম আজ বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। যে তিনজন মারা গিয়েছে তারা মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। দু’জন বেশ কিছুদিন জেলেও ছিল। 
ওই বিস্ফোরক কোথা থেকে আনা হয়েছিল, তার হদিশ পায়নি পুলিস। মামনের অতিরিক্ত টাকা হয়ে যাওয়ায় মাটিতে তার পা পড়ত না। আগে মুদির দোকানে ধারে মালপত্র নিত। তবে ইদানিং সে নগদেই কেনাকাটা করত। কেউ জিজ্ঞাসা করলেই মামন বলত, কেরলে তার ৫০ হাজার টাকা বেতনের কাজ আছে। কিন্তু লোকসভা ভোটের কয়েক মাস আগেই মামন কাজ ছেড়ে বাড়িতে চলে আসে। এলাকার দুই মাদক কারবারির সঙ্গে দহরম মহরম শুরু হয়। 
এক আত্মীয় বলেন, ৫০ হাজার টাকা না হলেও মামন প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকার কাছাকাছি উপার্জন করত। ওখানকার একটি হার্ডওয়ারের দোকানের জিনিসপত্র ডেলিভারি দেওয়ার কাজও করত।  কিছুদিন আগেই পাকাবাড়ি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। তীব্র বিস্ফোরণে ওই একতলা পাকাবাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ছাদ সহ বাড়ির দু’টি ঘর সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। 
খয়েরতলার প্রতিবেশী এক মুদি দোকানদার বলেন, ইদানিং দোকান থেকে জিনিসপত্র কেনাকাটার বহর বেড়েছিল। কেরল থেকে ও নাকি প্রচুর টাকা উপার্জন করেছে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে যে এসব করত, তা আমরা টের পাইনি। 
মামনের এক আত্মীয় বলেন, আরও যে দুজন মারা গিয়েছে, ওরা মামনের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করত।  মামনের বউ বেশকয়েক মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সে বাপের বাড়ি থাকায় এই অসামাজিক কাজ করতে ওর সুবিধা হয়েছে। ছেলেটা অকালে চলে যাওয়ায় ওর সংসারটা ভেসে যাবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ