Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাতের ট্রেন পৌঁছচ্ছে সকালে, আদ্রা ডিভিশনে পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ

রাতের ট্রেন পৌঁছচ্ছে সকালে, আদ্রা ডিভিশনে পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: আদ্রা ডিভিশনেই যত অবেহেলা রেলের! এমনিতেই ট্রেনের সংখ্যা হাতেগোনা। তারউপর সময়ে চলে না কোনও ট্রেনই। যে ট্রেন রাতে পুরুলিয়া এসে পৌঁছনোর কথা, সেই ট্রেন আসছে সকালে! যে ট্রেনের গন্তব্য পুরুলিয়া, না বলে কয়ে সেই ট্রেন আদ্রাতেই যাত্রা শেষ করছে! এনিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে ক্রমশই। বহু বিক্ষোভ দেখিয়েছে রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনগুলি। তবুও কোনও হেলদোল নেই রেলের। 
Advertisement
রেলের আদ্রা শাখায় ট্রেনের দেরি নতুন কিছু নয়। এনিয়ে একাধিকবার প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, এমনকী অবরোধ পর্যন্ত হয়েছে। দিস্তা দিস্তা ডেপুটেশন জমা পড়েছে রেলের দপ্তরে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও কোনও হেলদোল নেই রেলের। কোনও দিনই টাইম টেবিল মানছে না ট্রেন। প্রতিদিনই ট্রেন চলছে দেরিতে। যাত্রীদের অভিযোগ, এমনিতেই আদ্রা শাখায় নিত্যযাত্রীদের জন্য ট্রেনের সংখ্যা কম। তার উপর হাওড়া-পুরুলিয়া হোক কিংবা পুরুলিয়া আসানসোল লাইনে প্রায় সমস্ত ট্রেনই দৈনিক কয়েক ঘণ্টা দেরিতে চলাচল করছে। কোনও কোনও দিন তারও পরে।
পুরুলিয়া থেকে যাঁরা বিভিন্ন প্রয়োজনে কলকাতা যান, তাঁদের অনেকেই হাওড়া-পুরুলিয়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে ফেরেন। হাওড়া থেকে বিকেল ৪টে ৫০মিনিটে ছাড়ে ট্রেনটি। রাত ১০টা ৪০মিনিটে তার পুরুলিয়া ঢোকার কথা। ওই ট্রেনে বাড়ি ফিরে রাতের খাওয়া দাওয়া করতে পারতেন যাত্রীরা। স্টেশন থেকে বাড়ি ফেরার টোটোও পাওয়া যায়। কিন্তু, বর্তমানে সেসব অতীত হয়ে গিয়েছে। ইদানীং আর ট্রেনটি সময়ে পুরুলিয়া আসে না। গত কয়েক মাস ধরেই ভোররাতে ট্রেনটি ঢুকছে পুরুলিয়ায়। তখন আর বাড়ি ফেরারও কোনও যানবাহন পাচ্ছেন না যাত্রীরা। কিছুদিন আগে তো একবার ট্রেন পুরুলিয়ায় ঢুকতে সকাল হয়ে গিয়েছিল! তবে এখানেই শেষ হয়, মাঝেমধ্যে ট্রেনটি আবার ভোররাতে আদ্রা এসেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। পুরুলিয়া আর আসছে না। ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
এনিয়ে বুধবার পুরুলিয়ার স্টেশন ম্যানেজারকে ডেপুটেশন দেয় শহর তৃণমূল। ছিলেন জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া, শহর সভাপতি প্রদীপ ডাগা সহ অন্যান্য নেতারা। প্রদীপবাবু বলেন, ট্রেনের নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনোর কোনও তাড়া না থাকলেও সাধারণ মানুষের রয়েছে। এই সহজ সরল কথাটি রেলের আধিকারিকরা কবে বুঝবেন? আর কতদিন এভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হবে সাধারণ মানুষকে? সৌমেনবাবু বলেন, রেলের যাত্রী পরিষেবার মূল বিষয় দু’টি। প্রথমটি সুরক্ষা, অন্যটি সময়ে পৌঁছনো।  তার পরে আসে অন্যান্য বিষয়। কিন্তু, মোদি জমানায় গত কয়েক বছরে সেসব একেবারেই উধাও হয়ে গিয়েছে। রেলকে জানিয়েছি। এবার পদক্ষেপ না করলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।
রেলের এই খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেই বিভিন্ন স্টেশনে ডেপুটেশন দিয়েছে সিপিএম। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য তথা এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক সুব্রত মাহাত বলেন, ভারতীয় রেল ট্রেন চালাচ্ছে না সার্কাস? এভাবে আর কতদিন সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হবে? যদিও এনিয়ে নীরব রেল। আদ্রা শাখার এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, সময়ে ট্রেন চালানোর সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ