সংবাদদাতা, বহরমপুর: রাত পোহালেই বুধবার শিবরাত্রি উৎসব শুরু হবে। বুধবার রাতভর ভক্তরা উপবাস করে শিবরাত্রি ব্রত উদযাপন করবেন। শিবের মাথায় জল ঢালতে ভক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে উদ্মাদনা শুরু হয়ে গিয়েছে। বহরমপুরে বিভিন্ন বাজারে বেল আর ধুতুরার ফল কিনতে কার্যত হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। দুদিন আগেই সোমবার বেল ও ধুতুরার ফল চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে বহরমপুর শহরে ছোট বড় সমস্ত শিব মন্দিরগুলি সাজানোর কাজ চলছে। তিনি (মহাদেব) একটি বেল পাতাতেই তুষ্ট। তবে মহাদেবকে তুষ্ট করতে বেলপাতার সঙ্গে সীতাফল (বেল), ধুতুরা ফুল ও ফলের সঙ্গে দুধ গঙ্গাজল থাকবে ভক্তদের উপাচারের ডালিতে। শিবরাত্রির দিন বেল, ধুতুরা ফলের আকাল দেখা দিতে পারে এই আশঙ্কায় সোমবার থেকেই শিবভক্তরা উপাচার সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। সোমবার ১৫ টাকা পিস হিসেবে বেল বিক্রি হল। যে ধুতুরা ফল বিষাক্ত বলে কেউ হাতে ছুঁতে চায়না তাও বিকিয়েছে ৫-৭ টাকায়। স্বর্ণময়ী বাজারের বিক্রেতা মামণি বিশ্বাস বলেন, বুধবার ধুতুরা ফুলের চাহিদা বাড়বে। এখন বেল, ধুতুরা ফল বিকোচ্ছে। গোরাবাজার ফেরিঘাট সংলগ্ম এলাকায় একডালে জোড়া বেলের খোঁজ করছিলেন অপর্ণা চক্রবর্তী। অপর্ণাদেবী বলেন, অনেক খুঁজেও জোড়া বেল পেলাম না। অবশেষে ৩০ টাকা দিয়ে একজোড়া বেল কিনলাম। এদিকে শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে সোমবার থেকেই বহরমপুরে বিভিন্ন মন্দিরগুলি সেজে উঠতে শুরু করেছে। পাতেলেশ্বর, কাডিমবাজার ব্যাসদেব মন্দিরে শিবরাত্রিতে সব থেকে বেশি ভক্ত সমাগম হয়। এই দুই মন্দির সহ বহু শিব মন্দির সোমবার থেকেই বর্ণময় আলোর মালায় সেজে উঠছে। গোরাবাজার গঙ্গার ধারে মন্দির সাজাচ্ছিলেন পূর্ণেন্দু রায়। পূর্ণেন্দুবাবু বলেন, শিবরাত্রিতে সারা রাত জেগে ভক্তরা চার প্রহরে জল ঢালবেন। তারজন্যই মন্দির সাজানোর কাজ চলছে।



