Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাত হলেই বন্ধ হয়ে যায় সব ওষুধের দোকান, আতান্তরে সিউড়ির বাসিন্দা

রাত হলেই বন্ধ হয়ে যায় সব ওষুধের দোকান, আতান্তরে সিউড়ির বাসিন্দা
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, সিউড়ি: গভীর রাতে কোনও জরুরি ওষুধের দরকার পড়লে কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না সিউড়িবাসীর। কারণ, এই শহরে রাতে কোনও ওষুধের দোকানই খোলা থাকে না। এমনকী সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানটিও রাতে বন্ধ থাকে বলে অভিযোগ। অথচ ড্রাগ কন্ট্রোলের নির্দেশ মতো হাসপাতাল এলাকায় এবং শহরের অন্যান্য জায়গায় ‘রোটেশন’ পদ্ধতিতে ওষুধের দোকান খোলা রাখার কথা। কিন্তু সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওষুধের দোকানের মালিকরা রাত হলেই দোকানের ঝাঁপ ফেলে দিচ্ছেন। আতান্তরে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পরিজনরা। শহরের দু’টি বেসরকারি হাসপাতালের নিজেদের ওষুধের দোকান খোলা থাকলেও ওই দুই দোকানে সব ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ। শহরের বাসিন্দারা বলছেন, সিউড়ি শহরে রাত্রি ১০টার পর বেশিরভাগ ওষুধের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি হাসপাতাল ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকও পাওয়া যায় না। আগে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের আশপাশে রাতের বেলা কিছু ওষুধের দোকান খোলা থাকত। কিন্তু এখন রাত্রি ১১টা বাজলেই সমস্ত ওষুধের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। 
Advertisement
সিউড়ি হাসপাতালের ভিতরে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানটির নতুন টেন্ডার না হওয়ায় সেটি বন্ধ গিয়েছিল। মানুষের সুবিধার্থে অন্য একটি বিল্ডিংয়ে অস্থায়ী ভাবে সেই দোকানটি খোলার ব্যবস্থা করে স্বাস্থ্যদপ্তর। সেখানে দিনের বেলা ‘জেনেরিক মেডিসিন’ পাওয়া গেলেও রাতে দোকানটি বন্ধ থাকে বলেই অভিযোগ রোগীর আত্মীয়দের। ফলের রাতে হাসপাতালের রোগীদের জরুরি মেডিসিন বা ইঞ্জেকশন দরকার পড়লে বিপাকে পড়ছেন রোগীর আত্মীয়রা। তখন শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়াতে হচ্ছে তাঁদের। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি বছর কয়েক আগে ড্রাগ কন্ট্রোল আধিকারিককে বিষয়টি জানিয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় রাতের বেলায় পরিষেবা দেওয়ার জন্য ওষুধের দোকান খুলে রাখা এবং শহরের অন্যান্য জায়গায় রোটেশন পদ্ধতিতে ওষুধের দোকান খুলে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন।  কিন্তু সেই নিয়ম রয়ে গিয়েছে কাগজে কলমেই। 
এই নিয়ে অবশ্য কোনও হেলদোল নেই স্বাস্থ্যদপ্তরের। ওষুধের দোকানের মালিকদের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁরা গভীর রাতে দোকান বন্ধ করে দেন। পুলিস তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করলে তবেই তাঁরা দোকান খোলা রাখবেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের দেখার কথা। হাসপাতাল এলাকায় রাতের বেলা ওষুধের দোকান বন্ধ থাকলে সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। আগেও ড্রাগ কন্ট্রোলকে বলা হয়েছিল। আবারও জানাব।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ