নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেতে একসময় বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। তারপরও প্রাক্তন স্বামীর মার থেকে মিলল না রেহাই। সোমবার স্কুল যাওয়ার পথে মাঝরাস্তায় বেধড়ক মার খেতে হল প্রাইমারি স্কুলের এক শিক্ষিকাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষিকাকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মাথায়, পিঠে, বুকে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে ওই শিক্ষিকা জানান,আমি দ্রুত পুলিসের কাছে প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ দায়ের করব।
Advertisement
রায়গঞ্জ শহরের বাসিন্দা ওই শিক্ষিকা এদিন স্কুলে ক্লাস করানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন। টোটোয় চেপে স্কুলের পথে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, শিক্ষিকার প্রাক্তন স্বামী আচমকা টোটো আটকে তাঁর উপর চড়াও হন। শিক্ষিকার দাবি, আমার মাথায়, বুকে, পেটে, এলোপাথারি চড়, ঘুষি মারতে থাকেন। কোনও ব্লেড জাতীয় কিছু দিয়ে হাতেও আঘাত করেন। সোয়েটার ছিঁড়ে দেন। গলায় জড়ানো ওড়নাও টেনে ধরেন। এই শিক্ষিকার দাবি, অনেকদিন ধরে হুমকি দিচ্ছিলেন তাঁর প্রাক্তন স্বামী। ওই শিক্ষিকার কথায়, সম্প্রতি আমার স্কুলে ঢুকে আমাকে গুলি করে খুন করার হুমকিও দেন তিনি। জানা গিয়েছে, কয়েকবছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে স্ত্রীর উপর লাগাতার অত্যাচার করতেন স্বামী। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কয়েকমাস আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাঁদের। প্রাথমিক শিক্ষিকার কথায়,বিচ্ছেদের পর থেকেই আমাকে নানাভাবে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযুক্ত প্রাক্তন স্বামীর পাল্টা দাবি, ওর ভয়ে আমি রায়গঞ্জে যেতে পারি না। মারধরের অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যে। ওর আগেও একবার বিয়ে হয়েছে।



